Tech Dental

আক্কেল দাঁত তোলা – খরচ এবং বিস্তারিত

3,000.00 ৳ (Per Teeth)

বাংলাদেশে সাশ্রয়ী আক্কেল দাঁত তোলার খরচ ও ব্যথামুক্ত আধুনিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে টেক ডেন্টাল। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে নিরাপদ এক্সট্রাকশন নিশ্চিত করতে আজই ভিজিট করুন।

আক্কেল দাঁতের অসহ্য ব্যথায় ভুগছেন? অনেক সময় মাড়ির একদম শেষে গজানো এই দাঁতটি ঠিকমতো ওঠার জায়গা পায় না, ফলে এটি বাঁকা হয়ে ওঠে অথবা মাড়ির ভেতরেই আটকে থাকে। একে বলা হয় ইমপ্যাক্টেড উইজডম টুথ। এই সমস্যা শুধু ব্যথাই দেয় না, বরং আপনার পাশের সুস্থ দাঁতগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। টেক ডেন্টাল-এ আমরা আধুনিক টেকনোলজি ও দক্ষ সার্জনদের মাধ্যমে অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং ব্যথামুক্ত উপায়ে আপনার আক্কেল দাঁতের সমাধান প্রদান করি।


আক্কেল দাঁত তোলা বা উইজডম টুথ এক্সট্রাকশন কি?

আক্কেল দাঁত হলো আমাদের মুখের একদম শেষ প্রান্তে গজানো দাঁত। যখন এই দাঁতটি স্বাভাবিকভাবে উঠতে পারে না বা মাড়ির ভেতরে হাড়ের সাথে আটকে যায়, তখন ডেন্টাল সার্জারির মাধ্যমে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। একেই উইজডম টুথ এক্সট্রাকশন বা আক্কেল দাঁত তোলা বলা হয়। এটি একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া যা বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্টের মাধ্যমে করা উচিত।

    wisdom teeth removal cost

কেন আক্কেল দাঁত তোলা জরুরি?

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে দাঁতটি না তুললে কি হয়? মূলত নিচের কারণগুলোর জন্য আক্কেল দাঁত তোলা জরুরি হয়ে পড়ে:

  • তীব্র ব্যথা ও মাড়ি ফোলা: দাঁতটি আংশিক উঠে থাকলে সেখানে খাবার জমে ইনফেকশন ও প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি করে।

  • অন্য দাঁতের ক্ষতি: আক্কেল দাঁত বাঁকা হয়ে উঠলে পাশের সুস্থ দাঁতকে ধাক্কা দেয়, ফলে দাঁত আঁকাবাঁকা হয়ে যেতে পারে।

  • সিস্ট বা টিউমার: অনেক সময় মাড়ির ভেতরে আটকে থাকা দাঁতের চারপাশে সিস্ট তৈরি হতে পারে, যা চোয়ালের হাড়ের ক্ষতি করে।

  • পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: মুখের একদম শেষে হওয়ায় এই দাঁত ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করা কঠিন, ফলে খুব দ্রুত ক্যারিজ বা গর্ত তৈরি হয়।

বাংলাদেশে আক্কেল দাঁত তোলার খরচ

বাংলাদেশে আক্কেল দাঁত তোলার খরচ সাধারণত দাঁতের অবস্থান এবং সেটি কতটা জটিল অবস্থায় আছে তার ওপর নির্ভর করে। সাধারণ এক্সট্রাকশন এবং সার্জিক্যাল এক্সট্রাকশনের খরচ ভিন্ন হয়ে থাকে। টেক ডেন্টাল সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে সেরা মানের সেবা নিশ্চিত করে।

সার্ভিসের বিবরণবাংলাদেশে সাধারণ খরচটেক ডেন্টাল খরচ
সাধারণ আক্কেল দাঁত তোলা (পুরোপুরি ওঠা দাঁত)৩,০০০ – ৫,০০০ টাকা২,৫০০ – ৪,০০০ টাকা
সার্জিক্যাল এক্সট্রাকশন (মাড়ির ভেতরে আটকে থাকা দাঁত)৮,০০০ – ১২,০০০ টাকা৬,০০০ – ১০,০০০ টাকা
জটিল সার্জিক্যাল এক্সট্রাকশন (শিকড় বাঁকা বা ভাঙা দাঁত)১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা৮,০০০ – ১২,০০০ টাকা
ডেন্টাল এক্স-রে (প্রয়োজন সাপেক্ষে)৫০০ – ১,০০০ টাকা৩০০ – ৫০০ টাকা

আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ

আক্কেল দাঁত তোলা একটি সংবেদনশীল সার্জারি, তাই নিরাপদ ও ব্যথামুক্ত অভিজ্ঞতার জন্য প্রয়োজন দক্ষ হাত। টেক ডেন্টালে আপনার চিকিৎসায় নিয়োজিত আছেন দেশসেরা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ:

Image of wisdom tooth impaction surgery

১. প্রফেসর ড. নাফিস উদ্দিন চৌধুরী

মেডিকেল ডিরেক্টর ও লিড স্পেশালিস্ট – প্রস্থোডনটিক্স ও ইমপ্ল্যান্ট

প্রফেসর ড. নাফিস উদ্দিন চৌধুরী একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ডেন্টিস্ট, যার ২৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডেন্টাল সার্জারি এবং ইমপ্ল্যান্টে দক্ষতা রয়েছে। জাপানের টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং জাপান, ইউএসএ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তার নিপুণ তত্ত্বাবধানে টেক ডেন্টাল বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করে।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিডিএস (পায়োনিয়ার ডেন্টাল কলেজ), পিএইচডি (জাপান)

  • বিশেষত্ব: ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট ও প্রস্থোডনটিক্স

  • বিএমডিসি রেজি নং: ১২১০

  • অভিজ্ঞতা: ২৪+ বছর

২. ডা. আফসানা হক জ্যোতি

ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিশেষজ্ঞ

আক্কেল দাঁত তোলা বা জটিল ওরাল সার্জারির জন্য ডা. আফসানা হক জ্যোতি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ঢাকা ডেন্টাল কলেজ থেকে ওরাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি এবং পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রিতে পিজিটি সম্পন্ন করা এই চিকিৎসক অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং নিখুঁতভাবে সার্জারি সম্পন্ন করেন।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিডিএস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), পিজিটি (ঢাকা ডেন্টাল কলেজ)

  • বিশেষত্ব: ওরাল সার্জারি এবং অ্যাসথেটিক ডেন্টিস্ট্রি

  • বিএমডিসি রেজি নং: ১১০৭১

  • অভিজ্ঞতা: ৫+ বছর


এই চিকিৎসকদের অধীনে কেন সেবা নিবেন?

  • নির্ভুল ডায়াগনোসিস: উচ্চ শিক্ষিত ডাক্তারদের মাধ্যমে আপনার দাঁতের জটিলতা সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়।

  • সার্জিক্যাল দক্ষতা: ৫ থেকে ২৪ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তারদের মাধ্যমে সার্জারি করা হয়, যা ঝুঁকির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

  • ব্যথামুক্ত পদ্ধতি: আধুনিক ইনজেকশন মেথড এবং পেইনলেস সার্জারি টেকনিক।

  • ফলো-আপ সেবা: প্রতিটি সার্জারির পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা নিজেই রোগীর অবস্থার খোঁজখবর নেন।

আক্কেল দাঁত যথাসময়ে না তুললে কি ক্ষতি হতে পারে?

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো আক্কেল দাঁত না তুললে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এটি কেবল আপনার মুখের স্বাস্থ্য নয়, আপনার আত্মবিশ্বাসকেও কমিয়ে দিতে পারে।

  • ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে মুখের আশেপাশে বা চোয়ালে প্রচণ্ড পচন ধরতে পারে।

  • মাড়িতে পুঁজ জমতে পারে যা থেকে পেরিওডন্টাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • পাশের ভালো দাঁতটিতে ক্যাভিটি হয়ে সেটিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কেন রোগী ‘টেক ডেন্টাল’ পছন্দ করবে?

আপনার হাসির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। টেক ডেন্টালকে বেছে নেওয়ার কারণসমূহ:

  • অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ সার্জন: আমাদের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডেন্টাল সার্জন টিম।

  • আধুনিক ইকুইপমেন্ট: আমরা লেটেস্ট ডেন্টাল টেকনোলজি ও পেইনলেস ইনজেকশন মেথড ব্যবহার করি।

  • শতভাগ জীবাণুমুক্ত পরিবেশ: প্রতিটি সার্জারির আগে আমরা সর্বোচ্চ মানের স্টেরিলাইজেশন নিশ্চিত করি।

  • সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ মূল্য তালিকা: কোনো লুকানো খরচ ছাড়াই আমরা উন্নত মানের চিকিৎসা প্রদান করি।


৫টি FAQ (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)

১. বাংলাদেশে আক্কেল দাঁত তোলার খরচ কত এবং টেক ডেন্টালে কোনো ডিসকাউন্ট আছে কি?

উত্তর: বাংলাদেশে আক্কেল দাঁত তোলার খরচ সাধারণত ৩,০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে টেক ডেন্টালে আমরা বিশেষ প্যাকেজে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এই সেবা দিচ্ছি, যা সাধারণ বাজারের তুলনায় অনেক কম।

২. আক্কেল দাঁত তুলতে কি খুব বেশি ব্যথা লাগে?

উত্তর: না, আধুনিক লোকাল অ্যানেশেসিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত করা হয়। সার্জারির পর সামান্য অস্বস্তি হতে পারে যা ওষুধের মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়।

৩. সার্জারির পর সুস্থ হতে কতদিন সময় লাগে?

উত্তর: সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ঘা শুকিয়ে যায় এবং রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে পূর্ণ সুস্থতার জন্য ডেন্টিস্টের দেওয়া নিয়মাবলী মেনে চলা জরুরি।

৪. সব আক্কেল দাঁত কি তোলা বাধ্যতামূলক?

উত্তর: না, যদি আপনার আক্কেল দাঁত সোজা হয়ে ওঠে এবং কোনো ব্যথা বা সমস্যা সৃষ্টি না করে, তবে তা তোলার প্রয়োজন নেই। এটি কেবল এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়।

৫. দাঁত তোলার পর কি ধরণের খাবার খাওয়া উচিত?

উত্তর: সার্জারির পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা নরম এবং ঠান্ডা খাবার (যেমন: আইসক্রিম, দই, পাতলা জাউ ভাত) খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গরম বা শক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।