ডেন্টাল ইমপ্লান্ট এর খরচ নিয়ে চিন্তিত? টেক ডেন্টাল দিচ্ছে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ সমাধান। জানুন দাঁতের ইমপ্লান্ট এর খরচ বাংলাদেশ-এ কেন আমাদের ক্লিনিকেই সবচেয়ে যৌক্তিক।
একটি সুন্দর হাসি কেবল আপনার ব্যক্তিত্বকেই ফুটিয়ে তোলে না, বরং আপনার আত্মবিশ্বাসকেও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু একটি বা একাধিক দাঁত হারিয়ে ফেলা আপনার খাবার খাওয়ার আনন্দ এবং কথা বলার সাবলীলতা কেড়ে নিতে পারে। আমরা জানি, হারানো দাঁত ফিরে পাওয়া এবং একই সাথে ডেন্টাল ইমপ্লান্ট এর খরচ নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া কতটা জরুরি। ‘টেক ডেন্টাল’-এ আমরা আপনার ব্যথাহীন অভিজ্ঞতা এবং টেকসই চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
ডেন্টাল ইমপ্লান্ট হলো আধুনিক দন্তচিকিৎসার এমন একটি পদ্ধতি যেখানে হারানো দাঁতের মূলে একটি টাইটানিয়াম পোস্ট বসানো হয়। এটি কৃত্রিম দাঁতের রুট হিসেবে কাজ করে। পরবর্তীতে এর ওপর একটি ক্রাউন বা দাঁত বসিয়ে দেওয়া হয়, যা দেখতে এবং কাজ করতে একদম প্রাকৃতিক দাঁতের মতোই। এটি ব্রিজ বা ডেনচারের তুলনায় অনেক বেশি স্থায়ী এবং আরামদায়ক।
দাঁত হারানো কেবল সৌন্দর্যের হানি নয়, বরং এটি আপনার চোয়ালের হাড়ের ক্ষয় এবং মুখের অবয়ব পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। নিচের কারণগুলোতে ইমপ্লান্ট করা জরুরি:
হারানো দাঁতের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য।
স্বাভাবিকভাবে খাবার চিবানোর ক্ষমতা ফিরে পেতে।
মুখের হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে এবং চেহারার গঠন ঠিক রাখতে।
পার্শ্ববর্তী সুস্থ দাঁতগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে শূন্যস্থান পূরণ করতে।
আজীবন ব্যবহারের উপযোগী একটি কৃত্রিম দাঁত পেতে।
বর্তমানে বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ ডেন্টিস্টদের কারণে এই চিকিৎসা অনেক সহজলভ্য হয়েছে। তবে দাঁতের ইমপ্লান্ট এর খরচ বাংলাদেশ-এর বিভিন্ন ক্লিনিক এবং ইমপ্লান্টের ব্র্যান্ডের (যেমন: কোরিয়ান, সুইস বা আমেরিকান) ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হয়। টেক ডেন্টাল-এ আমরা মান এবং খরচের মধ্যে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখি যাতে সাধারণ মানুষ সেরা চিকিৎসাটি পায়।
| সার্ভিসের বিবরণ (ইমপ্লান্টের ধরণ) | বাংলাদেশে সাধারণ গড় খরচ (BDT) | টেক ডেন্টাল বর্তমান প্রাইজ (BDT) |
| মিনি ডেন্টাল ইমপ্লান্ট (প্রতি দাঁত) | ৳৪০,০০০ – ৳৫৫,০০০ | ৳৩৫,০০০ – ৳৫০,০০০ |
| কোরিয়ান ইমপ্লান্ট (Osstem) | ৳৭০,০০০ – ৳৯০,০০০ | ৳৬০,০০০ – ৳৮০,০০০ |
| ইউএসএ প্রিমিয়াম ইমপ্লান্ট | ৳১,১০,০০০ – ৳১,৩০,০০০ | ৳১,০০,০০০ – ৳১,২০,০০০ |
| জার্মান ইমপ্লান্ট (Nobel) | ৳১,৩০,০০০ – ৳১,৬০,০০০ | ৳১,২০,০০০ – ৳১,৫০,০০০ |
| All-on-4 ফুল মাউথ (প্রতি চোয়াল) | ৳৪,০০,০০০ – ৳৫,৫০,০০০ | ৳৩,৫০,০০০ – ৳৫,০০,০০০ |
| All-on-6 ফুল মাউথ (প্রতি চোয়াল) | ৳৫,০০,০০০ – ৳৭,০০,০০০ | ৳৪,৭০,০০০ – ৳৬,৫০,০০০ |
| বোন গ্রাফটিং (Bone Grafting) | ৳২৫,০০০ – ৳৪৫,০০০ | ৳২০,০০০ – ৳৪০,০০০ |
| সাইনাস লিফট সার্জারি (Sinus Lift) | ৳৩৫,০০০ – ৳৫৫,০০০ | ৳৩০,০০০ – ৳৫০,০০০ |
দাঁত পড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না করালে নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হাড়ের ক্ষয়: দাঁত না থাকলে চোয়ালের হাড় উদ্দীপনা হারায় এবং ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে শুরু করে।
দাঁতের স্থানচ্যুতি: পাশের দাঁতগুলো ফাঁকা জায়গার দিকে হেলে পড়ে, যা কামড়ের সমস্যা তৈরি করে।
চেহারার পরিবর্তন: হাড়ের ক্ষয়ের কারণে গাল ভেতরের দিকে ঢুকে যায়, ফলে বয়স্ক দেখায়।
হজম সমস্যা: খাবার ঠিকমতো চিবিয়ে খেতে না পারায় দীর্ঘমেয়াদী হজমের সমস্যা হতে পারে।
অভিজ্ঞ সার্জন: আমাদের রয়েছে অভিজ্ঞ ও ডিগ্রিধারী ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনদের একটি দক্ষ টিম।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: সঠিক ইমপ্লান্ট পজিশনিংয়ের জন্য আমরা লেটেস্ট ডিজিটাল স্ক্যানিং ও এক্স-রে প্রযুক্তি ব্যবহার করি।
১০০% স্টেরিলাইজেশন: ইনফেকশন রোধে আমরা আন্তর্জাতিক মানের স্টেরিলাইজেশন প্রোটোকল মেনে চলি।
আজীবন সহায়তা: ইমপ্লান্ট পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী ফলোআপ এবং আফটার-সেলস কেয়ারে আমরা আপসহীন।
ডেন্টাল ইমপ্লান্ট একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম সার্জারি, যার সফলতার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দক্ষতা। টেক ডেন্টাল-এ এই বিভাগের নেতৃত্বে আছেন দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ:
প্রফেসর ড. নাফিস উদ্দিন চৌধুরী মেডিকেল ডিরেক্টর এবং লিড স্পেশালিস্ট – প্রস্থোডনটিক্স এন্ড ইমপ্লান্টস
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিডিএস (পায়োনিয়ার ডেন্টাল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
উচ্চতর ডিগ্রি: পিএইচডি (টোকিও মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি, জাপান)।
ফেলোশিপ: জাপান, ইউএসএ এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ডেন্টাল ইমপ্লান্টে বিশেষ ফেলোশিপ প্রাপ্ত।
অভিজ্ঞতা: বর্তমানে মান্ডি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রস্থোডনটিক্স বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এবং এই ক্ষেত্রে তার ২৪ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নং: ১২১০
বাংলাদেশে সাধারণ মানের ইমপ্লান্টের খরচ ৪৫,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। টেক ডেন্টাল-এ আমরা প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ইমপ্লান্ট ব্যবহার করি এবং সুলভ মূল্যে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করি।
পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। সার্জারির পর ইমপ্লান্টটি হাড়ের সাথে সেট হতে ৩ থেকে ৬ মাস সময় নিতে পারে, এরপর স্থায়ী ক্রাউন বসানো হয়।
একেবারেই না। আধুনিক লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়, ফলে রোগী চিকিৎসার সময় কোনো ব্যথা অনুভব করেন না।
সঠিকভাবে যত্ন নিলে এবং নিয়মিত চেকআপ করলে একটি ডেন্টাল ইমপ্লান্ট সাধারণত আজীবন স্থায়ী হয়।
যাদের চোয়ালের হাড় পর্যাপ্ত এবং মাড়ি সুস্থ, তারা সবাই এটি করাতে পারেন। তবে যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, তাদের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।