Table of Contents

এক্সিয়াম মাপস ২০ ট্যাবলেট: ব্যবহার, মাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  1. Home
  2. /
  3. Medication
  4. /
  5. এক্সিয়াম মাপস ২০ ট্যাবলেট:...
A close-up, front-facing view of a white rectangular carton for Exium MUPS 20 tablets, featuring a curved orange design and text indicating it contains Esomeprazole 20 mg.

Table of Contents

এক্সিয়াম মাপস ২০ হলো এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইহাইড্রেট সমৃদ্ধ একটি প্রেসক্রিপশন ওষুধ, যা মূলত গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসার, এসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া এবং গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI), যা পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদন কমিয়ে কাজ করে। রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (Radiant Pharmaceuticals Limited) কর্তৃক উৎপাদিত এই ওষুধের ২০২৬ সালের আপডেট নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো।

এক্সিয়াম মাপস ২০ কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

এক্সিয়াম মাপস ২০-এ আছে এসোমিপ্রাজল ২০ মি.গ্রা. (এমইউপিএস বা MUPS প্রযুক্তিতে তৈরি) এবং এটি প্রধানত নিচের সমস্যাগুলোতে ব্যবহৃত হয়:

· গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD): পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে আসার কারণে হওয়া বুক জ্বালাপোড়া ও প্রদাহের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায়। সাম্প্রতিক পিয়ার-রিভিউড (Peer-reviewed) ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অনুসারে, এমইউপিএস (Multi-Unit Particulate System) প্রযুক্তি সাধারণ ট্যাবলেটের চেয়ে দ্রুত এবং সুষমভাবে শরীরে শোষিত হয়ে অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

· গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসার: পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের আলসার নিরাময় ও নতুন করে আলসার হওয়া প্রতিরোধে।

· এইচ. পাইলোরি (H. pylori) নির্মূল: ব্যাকটেরিয়াজনিত আলসার দূর করতে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে সম্মিলিত চিকিৎসায়।

জরুরি মনে করিয়ে দেওয়া: তীব্র গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা বুক জ্বালাপোড়ার তাত্ক্ষণিক উপশমের জন্য এটি এন্টাসিডের মতো কয়েক মিনিটে কাজ না-ও করতে পারে; এটি মূলত অ্যাসিড উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এসোমিপ্রাজলের কার্যকারিতা এবং এর ফার্মাডাইনামিক্স সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ড্রাগব্যাংক ফার্মাকোলজি ও ক্লিনিক্যাল ডাটাবেজ (DrugBank) দেখতে পারেন।

সেবন মাত্রা (Dosage)

প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ বছরের বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সাধারণ ডোজ হলো প্রতিদিন একটি এক্সিয়াম মাপস ২০ ট্যাবলেট। এটি সাধারণত সকালে খাবার খাওয়ার ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে সেবন করতে হয়। ট্যাবলেটটি না চিবিয়ে বা গুঁড়ো না করে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে আস্ত গিলে খেতে হবে।

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এক্সিয়াম মাপস ২০ সাধারণত শরীরে ভালো মানিয়ে যায় এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো মৃদু হয়ে থাকে। সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:

· মাথাব্যথা

· ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

· পেটে ব্যথা বা গ্যাস (Flatulence)

· বমি বমি ভাব বা মুখ শুকিয়ে যাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ ২০২৬ নিরাপত্তা আপডেট ও পিয়ার-রিভিউড গবেষণা: বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি জার্নাল দীর্ঘ মেয়াদে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কবার্তা বজায় রেখেছে। ‘আমেরিকান জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি’-তে প্রকাশিত সাম্প্রতিক পিয়ার-রিভিউড গবেষণা ইঙ্গিত করে যে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন (১ বছরের বেশি) এই ওষুধ সেবনে হাড়ের ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস, শরীরে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্রনিক কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই বিষয়ের বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা ও আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা সম্পর্কে জানতে পাবমেড সেন্ট্রাল (PubMed Central) এবং ইউএস এফডিএ ড্রাগ সেফটি কমিউনিকেশন (FDA) এর অফিসিয়াল রিপোর্টগুলো দেখে নিতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও সাবধানতা

· হঠাৎ বন্ধ করবেন না: দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় এই জাতীয় ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে রিবাউন্ড অ্যাসিড সিক্রেশন (হঠাৎ তীব্র এসিডিটি) হতে পারে।

· লিভারের স্বাস্থ্য: লিভারের গুরুতর সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কম ডোজে ব্যবহার করতে হবে।

· গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকাল: আপনি গর্ভবতী হলে বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে ডাক্তারকে জানান; কেবল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেই চিকিৎসকের পরামর্শে এটি ব্যবহার করা উচিত।

· প্রতিক্রিয়া: আপনার যদি এসোমিপ্রাজল বা অন্য কোনো পিপিআই জাতীয় ওষুধে অতিসংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জি থাকে তবে এটি এড়িয়ে চলুন।

বাংলাদেশে ওষুধের দাম (জানুয়ারি ২০২৬ এর আনুমানিক তথ্য)

· প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম: প্রায় ৮.০০ টাকা। · প্রতি বক্সের দাম: সাধারণত রিলিজড প্যাক সাইজ অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয় (যেমন: ৩০ বা ৫০টির বক্সের মূল্য ২৪০–৪০০ টাকা)। · প্রস্তুতকারক: রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি এক্সিয়াম মাপ্স ২০ মিলিগ্রাম ওষুধের একটি সাদা ও কমলা রঙের বাণিজ্যিক বাক্স।
এসিডিটি নিরাময়ে ব্যবহৃত এক্সিয়াম মাপ্স ২০।
রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের এক্সিয়াম মাপ্স ২০ ওষুধের বক্স এবং সামনে রাখা একটি অ্যালুমিনিয়াম ব্লিস্টার ওষুধের পাতা।
বক্সের সাথে এক্সিয়াম মাপ্স ২০ ওষুধের পাতা।

এক্সিয়াম মাপস ২০ সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: এক্সিয়াম মাপস ২০ কি কোনো এন্টাসিড?

না। এটি একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) যা সরাসরি পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদনকারী পাম্পগুলোকে ব্লক করে। এটি সাধারণ এন্টাসিডের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে (প্রায় ২৪ ঘণ্টা) অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রশ্ন: এক্সিয়াম মাপস (MUPS) ট্যাবলেট কি চিবিয়ে বা পানিতে গুলিয়ে খাওয়া যায়?

না। মাপস (MUPS) প্রযুক্তির ট্যাবলেটগুলো হাজার হাজার ক্ষুদ্র মাইক্রো-গ্র্যানুলস দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি চিবিয়ে বা গুঁড়ো করে খেলে ওষুধের বিশেষ কোটিং নষ্ট হয়ে যায় এবং কার্যকারিতা কমে যায়। তাই এটি আস্ত গিলে খেতে হবে।

প্রশ্ন: এটি খালি পেটে খাওয়া কেন জরুরি?

এই ওষুধটি পাকস্থলীর অ্যাসিড পাম্পগুলো সক্রিয় হওয়ার আগেই সেগুলোকে ব্লক করতে কাজ করে, যা খালি পেটে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে এটি খাওয়া উচিত।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে এক্সিয়াম মাপস ২০-এর বিকল্প অন্য কোনো ভালো ব্র্যান্ড আছে?

হ্যাঁ। জনপ্রিয় কিছু বিকল্প হলো ম্যাক্সপ্রো ম্যাপস (ইনসেপ্টা), নেক্সাম ম্যাপস (বেক্সিমকো), সার্জেল (হেলথকেয়ার) এবং এসোরাল (এসকেএফ)।

প্রশ্ন: ডোজ মিস করলে কী করব?

মনে পড়ার সাথে সাথে খেয়ে নিন (যদি পরবর্তী খাবারের আগে পর্যাপ্ত সময় থাকে)। তবে যদি পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে যায়, তবে মিস করা ডোজটি বাদ দিন। কখনোই একসাথে দুটি ট্যাবলেট খাবেন না।

প্রশ্ন: এটি কাজ করতে কতদিন সময় নেয়?

প্রথম ডোজ নেওয়ার ১ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যেই এটি অ্যাসিড উৎপাদন কমাতে শুরু করে, তবে গ্যাস্ট্রিকের ক্ষত বা আলসার পুরোপুরি নিরাময় হতে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।

সতর্কীকরণ: এটি কেবল শিক্ষামূলক তথ্য (জানুয়ারি ২০২৬-এ আপডেট করা)। এটি কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসার বিকল্প নয়। যেকোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ করার আগে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

About the Author

Picture of Dr. Afsana Haque Joty
Dr. Afsana Haque Joty
টেক ডেন্টাল মিরপুর শাখার সিনিয়র ডেন্টাল সার্জন হিসেবে দায়িত্বরত ডা. আফসানা হক জ্যোতি দীর্ঘ পাঁচ বছরের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন দন্ত চিকিৎসক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কৃতি শিক্ষার্থী ঢাকা ডেন্টাল কলেজ থেকে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি এবং পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং (PGT) সম্পন্ন করেছেন। বিএমডিসি নিবন্ধিত (নং ১১০৭১) এই চিকিৎসক এস্থেটিক ডেন্টিস্ট্রিতেও বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তিনি অত্যন্ত যত্ন ও দক্ষতার সাথে শিশু ও বড়দের সব ধরনের দাঁতের সমস্যার আধুনিক সমাধান নিশ্চিত করছেন।

Related Articles