Tech Dental

Table of Contents

  1. Home
  2. /
  3. Health Tips
  4. /
  5. দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ,...

দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার

A person pointing to inflamed and red gums, representing early Gum Cancer: Symptoms, Causes, and Prevention Strategies.

Table of Contents

মাড়ির ক্যান্সার বর্তমানে একটি অন্যতম স্বাস্থ্য ঝুঁকি, যার প্রধান কারণ তামাক ও জর্দা সেবন। মাড়িতে লাল বা সাদা দাগ, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত, ফোলা ভাব এবং কারণ ছাড়াই দাঁত নড়ে যাওয়া এর প্রাথমিক লক্ষণ। অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথা না হওয়ায় রোগী এটি বুঝতে পারেন না, যা পরবর্তীতে জটিল আকার ধারণ করতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিরাময় সম্ভব। মাড়ির স্বাস্থ্যের যেকোনো সমস্যায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও আধুনিক স্ক্রিনিং সেবা দিচ্ছে ‘Tech Dental’। নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করুন এবং তামাক বর্জন করে সুস্থ থাকুন।

মাড়ির ক্যান্সার কী?

মাড়ির ক্যান্সার হলো মুখের এক প্রকার ম্যালিগন্যান্ট টিউমার, যা মাড়ির টিস্যুতে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে হয়। তামাক, জর্দা ও ধূমপান এর প্রধান কারণ। এর লক্ষণ হলো মাড়িতে লাল বা সাদা ক্ষত, ফোলা ভাব এবং রক্তপাত হওয়া যা সহজে সারে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মুখের ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের একটি প্রধান কারণ, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় তামাকের ব্যবহারের কারণে। বাংলাদেশ ও ভারতে এটি বেশ সাধারণ।

দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণসমূহ

দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণসমূহের তালিকা যেমন- ব্যথা, ঘা এবং দাঁত আলগা হওয়া।
মাড়ির ক্যান্সারের আগাম সতর্কতা

মাড়ির ক্যান্সার শুরুতে খুব একটা ব্যথা সৃষ্টি করে না, ফলে রোগী অনেক সময় বুঝতে পারেন না। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে:

  • অস্বাভাবিক রঙ পরিবর্তন: মাড়িতে হঠাৎ করে উজ্জ্বল লাল, সাদা বা গাঢ় রঙের ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেওয়া।

  • অনিরাময়যোগ্য ক্ষত: মুখের ভেতরে বা মাড়িতে কোনো ঘা বা আলসার যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং সাধারণ ওষুধে না সারে।

  • মাড়ি ফুলে যাওয়া: মাড়ির কোনো নির্দিষ্ট অংশ ফুলে ওঠা বা সেখানে কোনো টিউমারের মতো দলা বা পিণ্ড অনুভূত হওয়া।

  • দাঁত নড়ে যাওয়া: কোনো আঘাত বা বার্ধক্যজনিত কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে সুস্থ দাঁত নড়ে যাওয়া অথবা ডেনচার (বাঁধানো দাঁত) ঠিকমতো সেট না হওয়া।

  • রক্তপাত ও ব্যথা: মাড়ি থেকে ঘনঘন রক্ত পড়া এবং চিবানোর সময় বা মুখ খোলার সময় চোয়ালে ব্যথা অনুভব করা।

  • অসাড়তা: মাড়ি, জিহ্বা বা ঠোঁটের কোনো অংশ হঠাৎ অবশ বা অসাড় মনে হওয়া।

  • গলায় পিণ্ড: ঘাড় বা গলার লসিকা গ্রন্থি (Lymph nodes) ফুলে যাওয়া।

মাড়ির ক্যান্সার কেন হয়? (ঝুঁকির কারণসমূহ)

মাড়ির ক্যান্সারের পেছনে বেশ কিছু অভ্যাস ও শারীরিক অবস্থা দায়ী থাকতে পারে:

  1. তামাক ও জর্দা সেবন: বিড়ি, সিগারেট, গুল, জর্দা বা খৈনি ব্যবহারের ফলে মাড়ির কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

  2. অতিরিক্ত মদ্যপান: অ্যালকোহল মুখের ভেতরের টিস্যুকে সংবেদনশীল করে তোলে, যা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের জন্য পথ তৈরি করে।

  3. দীর্ঘস্থায়ী ঘর্ষণ: ভাঙা দাঁতের ধারালো অংশ বা ভুলভাবে ফিট করা ডেনচার থেকে মাড়িতে ক্রমাগত ঘর্ষণ ও ক্ষত সৃষ্টি হলে তা থেকে ক্যান্সার হতে পারে।

  4. এইচপিভি (HPV) ভাইরাস: হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস সংক্রমণের কারণেও ওরাল ক্যান্সার হতে পারে।

  5. দুর্বল ওরাল হাইজিন: নিয়মিত দাঁত ও মুখ পরিষ্কার না রাখা এবং দীর্ঘদিনের ইনফেকশনও অন্যতম কারণ।

দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ হিসেবে লালচে ভাব এবং ফোলা অংশ।
দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ
দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ হিসেবে লালচে ভাব এবং ফোলা অংশ।
দাঁতের মাড়িতে দীর্ঘস্থায়ী লালচে ভাব

মাড়ির ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

মাড়ির ক্যান্সারের প্রতিরোধে যা যা করণীয় তা আলোচনা করা হলোঃ

  • ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি বর্জন করুন: বিড়ি, সিগারেট, জর্দা ও গুল মাড়ির কোষের মারাত্মক ক্ষতি করে।

  • নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখুন: প্রতিদিন অন্তত দুইবার সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করুন ও ফ্লসিং করুন।

  • খাবারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত গরম চা বা খাবার এড়িয়ে চলুন যা মাড়ির টিস্যু পুড়িয়ে ফেলতে পারে।

  • নিয়মিত চেকআপ: প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তত একবার ডেন্টাল চেকআপ করান।

  • সুষম খাবার ও সচেতনতা: প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি খান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করুন। মুখের ভেতর কোনো দীর্ঘস্থায়ী ঘা, লালচে বা সাদাটে দাগ অথবা অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মুখ গহ্বর এবং দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ।
দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ শনাক্ত

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাড়ির কোনো সাধারণ পরিবর্তন যদি ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক না হয়, তবে বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে (Stage 1 or 2) ধরা পড়ে, তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। দেরিতে চিকিৎসা শুরু করলে এটি চোয়ালের হাড় বা গলার অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য “Tech Dental”-এ যোগাযোগ করুন

দাঁতের মাড়ির যেকোনো সমস্যা বা সন্দেহজনক লক্ষণ অবহেলা করা ঠিক নয়। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শের জন্য আপনি Tech Dental-এর সেবা নিতে পারেন। অভিজ্ঞ ডেন্টিস্ট এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে Tech Dental প্রদান করছে মাড়ির ক্যান্সার স্ক্রিনিং, বায়োপসি এবং ওরাল হাইজিন সম্পর্কিত বিশেষায়িত চিকিৎসা। আপনার মুখ ও দাঁতের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি মুক্ত থাকতে আজই যোগাযোগ করুন।

About the Author

Picture of Dr. Afsana Haque Joty
Dr. Afsana Haque Joty
টেক ডেন্টাল মিরপুর শাখার সিনিয়র ডেন্টাল সার্জন হিসেবে দায়িত্বরত ডা. আফসানা হক জ্যোতি দীর্ঘ পাঁচ বছরের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন দন্ত চিকিৎসক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কৃতি শিক্ষার্থী ঢাকা ডেন্টাল কলেজ থেকে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি এবং পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং (PGT) সম্পন্ন করেছেন। বিএমডিসি নিবন্ধিত (নং ১১০৭১) এই চিকিৎসক এস্থেটিক ডেন্টিস্ট্রিতেও বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তিনি অত্যন্ত যত্ন ও দক্ষতার সাথে শিশু ও বড়দের সব ধরনের দাঁতের সমস্যার আধুনিক সমাধান নিশ্চিত করছেন।

Related Articles