মোনাস ১০ হলো মন্টেলুকাস্ট সোডিয়াম সমৃদ্ধ একটি প্রেসক্রিপশন ওষুধ, যা মূলত হাঁপানি (অ্যাজমা) প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় এবং অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (অ্যালার্জিজনিত নাক দিয়ে পানি পড়া বা হাঁচি) উপশমে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি লিউকোট্রিন রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট, যা শ্বাসনালীর প্রদাহ কমিয়ে কাজ করে। একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড (The ACME Laboratories Ltd.) কর্তৃক উৎপাদিত এই ওষুধের ২০২৬ সালের আপডেট নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো।
মোনাস ১০ কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
মোনাস ১০-এ আছে মন্টেলুকাস্ট ১০ মি.গ্রা. এবং এটি প্রধানত নিচের সমস্যাগুলোতে ব্যবহৃত হয়:
হাঁপানি (অ্যাজমা) ব্যবস্থাপনা: হাঁপানি প্রতিরোধ এবং এর দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা।
ব্যায়ামজনিত শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধ: শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের কারণে হওয়া শ্বাসকষ্ট (EIB) প্রতিরোধে।
অ্যালার্জি উপশম: সিজনাল বা বারোমাসি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (যেমন: হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চুলকানি) উপশমে।
জরুরি মনে করিয়ে দেওয়া: মোনাস ১০ তীব্র হাঁপানির টান বা ইমার্জেন্সি “রেসকিউ” মেডিসিন হিসেবে কাজ করে না। জরুরি অবস্থায় সবসময় আপনার দ্রুত উপশমকারী ইনহেলার ব্যবহার করুন। মন্টেলুকাস্টের কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ড্রাগব্যাংকের এই ফার্মাকোলজি ও ক্লিনিক্যাল তথ্যসমূহ দেখতে পারেন।
সেবন মাত্রা (Dosage)
১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিশোর-কিশোরীদের হাঁপানি বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের জন্য ডোজ হলো প্রতিদিন একটি ১০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট, যা সন্ধ্যায় সেবন করতে হয়। এটি খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়াও সেবন করা যেতে পারে।
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মোনাস ১০ সাধারণত শরীরে ভালো মানিয়ে যায় এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো মৃদু হয়ে থাকে। সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:
মাথাব্যথা
পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
ডায়রিয়া বা বমি বমি ভাব
জ্বর বা ওপরের শ্বাসনালীর সংক্রমণ
গুরুত্বপূর্ণ ২০২৬ নিরাপত্তা আপডেট: বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মন্টেলুকাস্টের ক্ষেত্রে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্যগত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (মেজাজ পরিবর্তন, উদ্বেগ, বা বিরল ক্ষেত্রে আত্মঘাতী চিন্তা) সম্পর্কে একটি ‘বক্সড ওয়ার্নিং’ বজায় রেখেছে। জার্নাল অফ অ্যাজমা অ্যান্ড অ্যালার্জি-তে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ওষুধ চলাকালীন রোগীর আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও সাবধানতা
হঠাৎ বন্ধ করবেন না: মোনাস শুরু করার সময় আপনার নিয়মিত ইনহেলার বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
লিভারের স্বাস্থ্য: লিভারের গুরুতর সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকাল: আপনি গর্ভবতী হলে বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে ডাক্তারকে জানান; খুব প্রয়োজন হলেই কেবল এটি ব্যবহার করা উচিত।
প্রতিক্রিয়া: আপনার যদি মন্টেলুকাস্টে অ্যালার্জি থাকে তবে এটি এড়িয়ে চলুন।
বাংলাদেশে ওষুধের দাম (জানুয়ারি ২০২৬ এর আনুমানিক তথ্য)
প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম: প্রায় ১৭.৫০ টাকা।
প্রতি স্ট্রিপের দাম (১৫টি ট্যাবলেট): সাধারণত ২৫০–২৭০ টাকা।
প্রস্তুতকারক: দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড।


মোনাস ১০ সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: মোনাস ১০ কি কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিহিস্টামিন?
না। এটি একটি লিউকোট্রিন রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট যা প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপাদানকে বাধা দেয়। এটি সাধারণ অ্যান্টিহিস্টামিনের চেয়ে ভিন্নভাবে কাজ করে এবং এটি কোনো ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় না।
প্রশ্ন: মোনাস ১০ কি দিনে নাকি রাতে খেতে হয়?
ভালো ফলাফলের জন্য ডাক্তাররা সাধারণত রাতে (সন্ধ্যায়) মোনাস ১০ খাওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে রাতে বা ভোরের দিকে হাঁপানি বা অ্যালার্জির লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে।
প্রশ্ন: মোনাস ১০ খেলে কি ঘুম পায়?
সাধারণত না। অনেক পুরোনো অ্যালার্জির ওষুধের মতো মোনাস ১০ সেবনে ঘুম ঘুম ভাব হয় না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে মোনাস ১০-এর বিকল্প অন্য কোনো ভালো ব্র্যান্ড আছে?
হ্যাঁ। জনপ্রিয় কিছু বিকল্প হলো মন্টিন (ইনসেপ্টা), মন্টাস (স্কয়ার), এম-কাস্ট (বেক্সিমকো) এবং মনোকাস্ট (জেনারেল)।
প্রশ্ন: মোনাস ১০-এর নতুন প্যাক (New Pack) কী?
নিরাপত্তা এবং নকল রোধে একমি ল্যাবরেটরিজ মাঝে মাঝে প্যাকেজিং আপডেট করে। তবে ভেতরের ওষুধ বা ১০ মি.গ্রা. মন্টেলুকাস্ট একই থাকে।
প্রশ্ন: ডোজ মিস করলে কী করব?
মনে পড়ার সাথে সাথে খেয়ে নিন, তবে যদি পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে যায় তবে মিস করা ডোজটি বাদ দিন। কখনোই একসাথে দুটি ট্যাবলেট খাবেন না।
প্রশ্ন: এটি কাজ করতে কতদিন সময় নেয়?
কয়েক দিনের মধ্যেই উপকার পাওয়া শুরু হয়, তবে হাঁপানি বা অ্যালার্জি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে ১-২ সপ্তাহ নিয়মিত সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।
সতর্কীকরণ: এটি কেবল শিক্ষামূলক তথ্য (জানুয়ারি ২০২৬-এ আপডেট করা)। এটি কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসার বিকল্প নয়। যেকোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ করার আগে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।




Call Now
Whatsapp
Address