দাঁতের স্কেলিং ও পলিশিং করলে দাঁত ফাঁকা হয়, ক্ষয় হয়, এই ধারণা অনেকের যা সম্পূর্ণ ভুল। মূলত দাঁতের গোড়ায় জমে থাকা কঠিন পাথর সাধারণ ব্রাশে পরিষ্কার হয় না, যা দূর করতে স্কেলিং পলিশিং জরুরি। জানুন কীভাবে নিরাপদ উপায়ে এই চিকিৎসাটি করা হয়, এর সঠিক খরচ এবং উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত।
স্কেলিং এবং পলিশিং আসলে কী? (What is Scaling & Polishing?)
দাঁতে জমে থাকা ময়লা, পাথর ও দাগ দূর করার একমাত্র এবং নিরাপদ উপায় হলো স্কেলিং এবং পলিশিং (Scaling and Polishing)।
আল্ট্রাসনিক স্কেলিং (Ultrasonic Scaling):
দাঁত ও মাড়ির মাঝে অনেক খাবার আটকে থাকে। নিয়মিত ব্রাশ করলে সেটা চলেও যায়। কিন্তু যদি এই সামান্য খাবারের অংশ লেগে থাকা অবস্থায় ব্রাশ না করা হয়, তাহলে সেটা কিছুটা শক্ত হয়ে যায়। একে বলে প্লাক (Plaque)। এই কিছুটা শক্ত হয়ে যাওয়া প্লাকের কিছু অংশ পরে ব্রাশের সঙ্গে উঠতে চায় না। আর প্রত্যেকবার এ রকম একটু একটু প্লাক জমে শক্ত হয়ে তৈরি হয় ক্যালকুলাস বা পাথর (Calculus)। ক্যালকুলাস বা পাথর পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার নামই হলো স্কেলিং। এটি সাধারণত আল্ট্রাসনিক মেশিনে করা হয় এজন্য এই প্রক্রিয়ার নাম হলো আল্ট্রাসনিক স্কেলিং।

পলিশিং (Polishing):
পলিশিং হলো দাঁতের স্কেলিং বা পরিষ্কার করার পরের ধাপ। এটি মূলত দাঁতকে মসৃণ ও চকচকে করার প্রক্রিয়া। স্কেলিং করার পর দাঁতের উপরিভাগ কিছুটা খসখসে থাকতে পারে। পলিশিং সেই খসখসে ভাব দূর করে দাঁতকে মসৃণ করে। ডেন্টিস্টরা একটি রাবারের কাপ বা ব্রাশ এবং বিশেষ এক ধরণের পেস্ট ব্যবহার করে দাঁতের ওপর আলতো করে ঘষেন। এতে দাঁতের গায়ে লেগে থাকা চা, কফি বা সিগারেটের হালকা দাগ (Stain) উঠে যায় এবং দাঁত ঝকঝকে দেখায়।

স্কেলিং কখন করা প্রয়োজন?
দাঁত স্কেলিং কখন প্রয়োজন, তা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ ও সময়ের ওপর নির্ভর করে। দাঁত ও মাড়িতে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিলে দেরি না করে স্কেলিং করানো প্রয়োজন:
- মাড়ি থেকে রক্ত পড়া: দাঁত ব্রাশ করার সময় বা শক্ত কিছু খাওয়ার সময় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে এটি মাড়ির প্রদাহ বা জিনজিভাইটিসের (Gingivitis) লক্ষণ হতে পারে।
- মুখে দুর্গন্ধ: নিয়মিত ব্রাশ করার পরেও যদি মুখে দুর্গন্ধ থাকে, তবে এটি দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া বা পাথরের কারণে হতে পারে।
- দাঁতে পাথর বা হলদে প্রলেপ: দাঁতের গোড়ায় হলুদ, বাদামী বা কালো রঙের শক্ত আবরণ (ক্যালকুলাস) জমে গেলে তা ব্রাশ করে তোলা যায় না। এটি দূর করতে স্কেলিং জরুরি।
- মাড়ি ফুলে যাওয়া বা লাল হওয়া: মাড়ি স্বাভাবিক গোলাপী রঙের বদলে লালচে হলে বা ফুলে গেলে বুঝতে হবে মাড়িতে ইনফেকশন হচ্ছে।
- দাঁত শিরশির করা: দাঁতের গোড়ায় পাথর জমার কারণে অনেক সময় মাড়ি নিচে নেমে যায়, ফলে দাঁত শিরশির করতে পারে।

২. নিয়মিত চেকআপের অংশ হিসেবে
কোনো সমস্যা না থাকলেও দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে নির্দিষ্ট সময় পর পর স্কেলিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়:
- সাধারণ নিয়ম: বিশ্বব্যাপী ডেন্টিস্টদের পরামর্শ (General Recommendation) মতে ও WebMD (Medical Reference) – অনুযায়ী, দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সাধারণত ৬ মাস অন্তর বা বছরে দুবার চেকআপ ও স্কেলিং করানো উচিত।
- ব্যক্তিভেদে: যাদের ওরাল হাইজিন বা দাঁত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস খুব ভালো, তাদের ক্ষেত্রে বছরে একবার স্কেলিং করালেও চলবে।
৩. বিশেষ ক্ষেত্রে
যাদের দাঁতে পাথর জমার প্রবণতা বেশি, তাদের অন্যদের চেয়ে ঘনঘন স্কেলিং লাগতে পারে:
- যারা ধুমপান, পান-সুপারি বা জর্দা সেবন করেন।
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে মাড়ির রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই তাদের নিয়মিত স্কেলিং প্রয়োজন।
- যাদের দাঁত আঁকাবাঁকা, কারণ সেখানে ব্রাশ ঠিকমতো পৌঁছায় না এবং পাথর জমার ঝুঁকি বেশি থাকে।
পরামর্শ: দাঁতে দৃশ্যমান পাথর বা সমস্যা না থাকলেও বছরে অন্তত একবার ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে চেকআপ করানো উচিত, কারণ অনেক সময় মাড়ির ভেতরের পাথর বাইরে থেকে দেখা যায় না।
স্কেলিং ও পলিশিং কিভাবে করা হয়?(Step-by-Step Process)
স্কেলিং ও পলিশিং দুটি ধাপে করা হয়:
ধাপ ১: স্কেলিং (পরিষ্কার করা): স্কেলিং করার জন্য ডেন্টিস্ট আল্ট্রাসনিক স্কেলার মেশিন ব্যবহার করেন। আল্ট্রাসনিক স্কেলারের মাথায় লাগানো মেটাল টিপ খুব দ্রুত কাঁপে এবং একই সাথে পানি স্প্রে করে। এই কম্পন ও পানির প্রেশারের মাধ্যমে দাঁতের দাগ, মাড়ির ফাঁকে জমে থাকা শক্ত পাথর (ক্যালকুলাস) এবং ময়লা (প্লাক) ভেঙে বের করে দেওয়া হয়।
ধাপ ২: পলিশিং (মসৃণ করা): স্কেলিংয়ের পর দাঁতের উপরিভাগ মসৃণ করার জন্য পলিশিং করা হয়। ডেন্টিস্ট একটি ঘূর্ণায়মান রাবার কাপ বা ব্রাশ এবং বিশেষ এক ধরণের পেস্ট ব্যবহার করেন। এটি দাঁতের ওপর ঘষে অবশিষ্ট দাগ দূর করা হয় এবং দাঁতকে মসৃণ ও চকচকে করা হয়।

স্কেলিং ও পলিশিং করতে কত সময় লাগে?(Duration)
সাধারণত স্কেলিং ও পলিশিং করতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে।
তবে দাঁতের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সময় কম-বেশি হতে পারে:
- দাগ ও পাথর স্বাভাবিক থাকলে: ২০-৩০ মিনিট।
- অতিরিক্ত পাথর বা কঠিন দাগ (পান/সিগারেট) থাকলে: ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে।
- স্কেলিংয়ের পর ২-৫ মিনিট সময় লাগে পলিশিং করতে।
দাঁত স্কেলিং ও পলিশিং করার উপকারিতা(Benefits of Teeth Scaling)
দাঁত স্কেলিং ও পলিশিং করার উপকারিতাগুলো হলো:
১. কঠিন ময়লা পরিষ্কার: সাধারণ ব্রাশ দিয়ে যা দূর করা সম্ভব হয় না, স্কেলিংয়ের মাধ্যমে সেই দাঁতে জমে থাকা ময়লা (প্লাক) এবং শক্ত পাথর (ক্যালকুলাস) পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়।
২. দাগ দূরীকরণ (Stain Removal): চা, কফি বা ধূমপানের ফলে দাঁতে যে দাগ পড়ে, স্কেলিং ও পলিশিংয়ের মাধ্যমে তা দূর করে দাঁতকে উজ্জ্বল করা হয়।
৩. মাড়ি ও হাড় রক্ষা (Gum Protection) : পাথর (ক্যালকুলাস) জমে থাকলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে এবং দাঁতের গোড়ার হাড় ক্ষয় হয়ে যায়। স্কেলিং করলে মাড়ি সুস্থ থাকে এবং দাঁত অকালে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
৪. দুর্গন্ধ দূর (Removes Bad Breath) : দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা (প্লাক) ও জীবাণু পরিষ্কার হওয়ার ফলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।
আপনার কেন স্কেলিং পলিশিং করা প্রয়োজন?(Why is Scaling Necessary?)

অনেকে মনে করেন শুধু দাঁত সাদা দেখানোর জন্য স্কেলিং পলিশিং করা হয়। এটি ভুল ধারণা। মূলত মুখের রোগ থেকে বাঁচতে এটি করা জরুরি।
- মাড়ির রোগ প্রতিরোধ: দাঁতের গোড়ায় পাথর জমলে মাড়ি ফুলে যায় এবং মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। স্কেলিং এটি প্রতিরোধ করে।
- মুখের দুর্গন্ধ দূর করে: ব্রাশ করার পরেও মুখে গন্ধ থাকলে বুঝতে হবে দাঁতের ফাঁকে জীবাণু বা ময়লা জমে আছে, যা স্কেলিং ছাড়া দূর হয় না।
- দাঁত নড়া রোধ: দীর্ঘদিন পাথর জমে থাকলে তা দাঁতের হাড় ক্ষয় করে ফেলে, ফলে অকালেই দাঁত নড়ে যায় বা পড়ে যায়।
- দাঁতের কালো দাগ দূরীকরণ: চা, কফি বা পান-সিগারেটের কারণে দাঁতে যে কালো বা লালচে দাগ পড়ে, তা দূর করতে পলিশিং খুবই কার্যকর।
স্কেলিং ও পলিশিং চিকিৎসার খরচ(Scaling & Polishing Cost in Bangladesh)
বাংলাদেশে স্কেলিং ও পলিশিংয়ের খরচ ক্লিনিক ও ডাক্তারের মানের ওপর ভিত্তি করে কম-বেশি হয়। স্কেলিং ও পলিশিংয়ের খরচ সাধারণত ৳৩০০ থেকে ৳৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
১. সাধারণ ক্লিনিক বা প্রাইভেট চেম্বার
অধিকাংশ প্রাইভেট ডেন্টাল ক্লিনিকে স্কেলিং ও পলিশিংয়ের খরচ সাধারণত ৳১০০০ থেকে ৳৩,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
২. কর্পোরেট বা প্রিমিয়াম ডেন্টাল সেন্টার
আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিলাসবহুল সুবিধা সম্পন্ন ক্লিনিকগুলোতে এই খরচ ৳৩০০০ থেকে ৳৫,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
৩. সরকারি হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ
সরকারি হাসপাতালগুলোতে খরচ অনেক কম। এখানে সাধারণত ৳৩০০ থেকে ৳৫,০০ টাকার মধ্যে টিকিট কেটে সেবাটি পাওয়া যায় (তবে দীর্ঘ লাইন ও সময়ের ব্যাপার থাকে)।
খরচ কেন কম-বেশি হয়?
- দাঁতের অবস্থা: দাঁতে যদি খুব বেশি পাথর বা কঠিন দাগ থাকে, তবে সময় বেশি লাগে এবং খরচ বাড়তে পারে।
- ডাক্তারের অভিজ্ঞতা: বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্টদের ফি সাধারণত একটু বেশি হয়।
- স্থান: ঢাকার গুলশান-বনানীর মতো এলাকার ক্লিনিকগুলোর খরচ মফস্বল বা সাধারণ এলাকার চেয়ে বেশি হয়।
পরামর্শ: চিকিৎসা শুরুর আগেই ডেন্টিস্টের সাথে মোট খরচ (স্কেলিং + পলিশিং) সম্পর্কে কথা বলে নেওয়া ভালো।
টেক ডেন্টালে স্কেলিং ও পলিশিং চিকিৎসার খরচ(Scaling & Polishing Price at Tech Dental)
টেক ডেন্টালে স্কেলিং এর খরচ ৳১৯৯০ টাঁকা থেকে ৳৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
- সাধারণ স্কেলিং ও পলিশিং: ৳১৯৯০ টাকা।
- এডভান্স স্কেলিং ও পলিশিং (অতিরিক্ত পাথর থাকলে): ৳৩,৫০০ টাকা।
স্কেলিং নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও সঠিক তথ্য(Myths vs Facts)
স্কেলিং নিয়ে মানুষের মনে অনেক ভয় কাজ করে। চলুন সঠিক তথ্যগুলো জেনে নিই:
ভুল ধারণা ১: স্কেলিং করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়
সঠিক তথ্য: আধুনিক ডেন্টাল মেশিনে আল্ট্রাসনিক ভাইব্রেশন বা কম্পন ব্যবহার করা হয়, যা শুধুমাত্র দাঁতের পাথর ভেঙে বের করে। এটি দাঁতের এনামেল বা মূল দাঁতের কোনো ক্ষতি করে না।
ভুল ধারণা ২: স্কেলিং করলে দাঁত ফাঁকা হয়ে যায়
সঠিক তথ্য: পাথর যখন দীর্ঘদিন দাঁতের দুই পাশের জায়গা দখল করে থাকে, তখন স্কেলিং করে সেই পাথর সরিয়ে ফেলার পর জায়গাটি ফাঁকা মনে হতে পারে। এটি পাথরের কারণে আগেই ফাঁকা হয়েছিল, স্কেলিং-এর কারণে নতুন করে ফাঁকা হয় না। কিছুদিন পর মাড়ি সুস্থ হয়ে সেই ফাঁকা জায়গা পূরণ করে নেয়।
ভুল ধারণা ৩: স্কেলিং করলে দাঁত নড়ে যায় বা দুর্বল হয়ে যায়।
সঠিক তথ্য: পাথর জমার কারণে মাড়ির হাড় ক্ষয়ে দাঁত আগেই দুর্বল হয়ে থাকে, কিন্তু পাথরের স্তরের কারণে তা বোঝা যায় না। পাথর সরানোর পর দাঁত সাময়িক নড়তে পারে, তবে মাড়ি সুস্থ হলে দাঁত আবার মাড়ির সাথে শক্ত হয়ে আটকে যায়।
ভুল ধারণা ৪: স্কেলিং করলে দাঁত ধবধবে সাদা (Bleaching) হয়ে যায়।
সঠিক তথ্য: স্কেলিং দাঁত সাদা করার (Whitening) চিকিৎসা নয়। এটি শুধুমাত্র দাঁতের ওপর জমে থাকা দাগ ও পাথর দূর করে দাঁতের আসল বা প্রাকৃতিক রং ফিরিয়ে আনে। পার্থক্যটি বুঝতে নিচের ছকটি দেখুন:
| বৈশিষ্ট্য | স্কেলিং (Scaling) | হোয়াইটিনিং (Whitening) |
| কাজ কী? | পাথর ও দাগ দূর করে পরিষ্কার করা | দাঁতকে ব্লিচ করে ধবধবে সাদা করা |
| দাঁতের রং | দাঁতের আসল/প্রাকৃতিক রং ফিরে আসে | কৃত্রিমভাবে সাদা রং করা হয় |
| খরচ | স্কেলিং এর খরচ তুলনামূলক কম (৳১৯৯০ – ৳৩৫০০ টাকা) | হোয়াইটিনিং এর খরচ অনেক বেশি (৳১০০০০-৳১৫০০০ টাকা) |
ভুল ধারণা ৫: স্কেলিং করতে অনেক ব্যথা হয়।
সঠিক তথ্য: আধুনিক আল্ট্রাসনিক মেশিনে স্কেলিং করলে তেমন কোনো ব্যথা হয় না। দাঁতে শিরশিরানি থাকলে সামান্য অস্বস্তি হতে পারে, যা সহ্য করার মতো।
ভুল ধারণা ৬: স্কেলিং করার সময় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া মানে দাঁতের ক্ষতি হচ্ছে।
সঠিক তথ্য: মাড়িতে আগে থেকেই ইনফেকশন বা প্রদাহ থাকলে স্কেলিংয়ের সময় জমে থাকা ময়লা (প্লাক) সরানোর ফলে দূষিত রক্ত বের হয়ে আসে। এটি মাড়ি সুস্থ হওয়ারই একটি লক্ষণ।
ভুল ধারণা ৭: স্কেলিং করলে দাঁতে সবসময় শিরশির (Sensitivity) করবে।
সঠিক তথ্য: পাথর দাঁতের গোড়া ঢেকে রাখে। পাথর সরানোর পর দাঁতের গোড়া বাতাসের সংস্পর্শে এলে ২-৩ দিন হালকা শিরশির করতে পারে, যা শীঘ্রই ঠিক হয়ে যায়। এটি স্থায়ী সমস্যা নয়।
স্কেলিং পলিশিং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া(Side Effects)
স্কেলিং ও পলিশিংয়ের কোনো দীর্ঘস্থায়ী বা ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে চিকিৎসার পর সাময়িকভাবে কিছু সমস্যা হতে পারে, যা কয়েকদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়।
১. দাঁতে শিরশির অনুভূতি (Sensitivity): দাঁতের গোড়ায় জমে থাকা পাথর (ক্যালকুলাস) সরে যাওয়ার ফলে দাঁতের ওই অংশটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ঠান্ডা বা গরম পানি লাগলে ২-৩ দিন দাঁত শিরশির করতে পারে।
২. মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া: যাদের মাড়িতে আগে থেকেই ময়লা (প্লাক) জমে প্রদাহ বা ইনফেকশন ছিল, তাদের স্কেলিংয়ের সময় বা পরে সামান্য রক্ত পড়তে পারে। এটি মাড়ি থেকে দূষিত রক্ত বের হওয়ার প্রক্রিয়া।
৩. দাঁত ফাঁকা মনে হওয়া: দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা পাথর (ক্যালকুলাস) পরিষ্কার করার পর সেই জায়গাটি খালি হয়ে যায়। এতে জিভ লাগলে বা আয়নায় দেখলে মনে হতে পারে দাঁত ফাঁকা হয়ে গেছে।
৪. মাড়িতে অস্বস্তি বা ব্যথা: যন্ত্রের কম্পন এবং মাড়ির গভীর থেকে ময়লা (প্লাক) পরিষ্কার করার কারণে মাড়ি সামান্য ফুলে যেতে পারে বা ১-২ দিন হালকা ব্যথা হতে পারে।
৫. দাঁত সামান্য নড়া: মাড়ির রোগ খুব বেশি হলে এবং হাড় ক্ষয়ে গেলে, পাথর (ক্যালকুলাস) সরে যাওয়ার পর দাঁত সাময়িক কিছুটা নড়বড়ে মনে হতে পারে। তবে মাড়ি সুস্থ হয়ে দাঁতকে আবার আঁকড়ে ধরলে এটি ঠিক হয়ে যায়।
দ্রষ্টব্য: এই সমস্যাগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়। সমস্যা বেশি হলে ডেন্টিস্টরা “ডিসেনসিটাইজিং টুথপেস্ট” (Desensitizing Toothpaste) ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
স্কেলিং পলিশিং করার পর করণীয়(Aftercare Tips)
স্কেলিং ও পলিশিং এর পর ভালো ফলাফল পেতে এবং দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি:
১. খাবার: ২-৩ দিন খুব বেশি ঠান্ডা বা গরম খাবার খাবেন না।
২. কুলি: দিনে ২-৩ বার কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করুন।
৩. সতর্কতা: প্রথম ২৪-৪৮ ঘণ্টা চা, কফি বা রঙিন খাবার এড়িয়ে চলুন, যাতে দাঁতে নতুন করে দাগ না বসে।
৪. ব্রাশ: নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং জোরে ব্রাশ করবেন না।
৫. নিষেধ: দাঁত খোঁচাতে টুথপিক বা কাঠি ব্যবহার করবেন না।
স্কেলিং ও পলিশিং বিষয়ে সাধারন প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. কতদিন পর পর দাঁত স্কেলিং করা উচিত?
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মাড়ি সম্পূর্ণ সুস্থ (Healthy Gums), তাদের ৬ মাস বা বছরে একবার স্কেলিং পলিশিং করানো প্রয়োজন। তবে যাদের মাড়িতে রক্ত পড়া বা পকেটের সমস্যা আছে, তাদের ৩-৪ মাস পর পর স্কেলিং করা জরুরি।
২. স্কেলিং এবং টিথ হোয়াইটিনিং (Bleaching) কি একই জিনিস?
না, দুটি সম্পূর্ণ আলাদা চিকিৎসা। স্কেলিং এর মাধ্যমে দাঁতের ওপর জমে থাকা পাথর (ক্যালকুলাস) ও দাগ দূর করে দাঁতের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনা হয়। হোয়াইটিনিং এর মাধ্যমে দাঁতকে তার স্বাভাবিক রঙের চেয়েও কৃত্রিমভাবে বেশি সাদা ও ধবধবে করা হয়।
৩. গর্ভবতী অবস্থায় কি স্কেলিং করা নিরাপদ?
গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় (বিশেষ করে দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে) স্কেলিং এবং রুট প্ল্যানিং করা মা ও গর্স্থ শিশুর জন্য নিরাপদ। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বরং মাড়ির রোগ (Periodontitis) থাকলে তা কম ওজনের শিশু (Low birth weight) বা অকাল প্রসবের (Preterm birth) ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৪. শিশুরা কি স্কেলিং করতে পারবে?
হ্যাঁ, শিশুদের দাঁতেও যদি পাথর (ক্যালকুলাস) বা শক্ত ময়লা (প্লাক) জমে, তবে স্কেলিং করা যাবে। বিশেষ করে আঁকাবাঁকা দাঁত থাকলে সেখানে ব্রাশ ঠিকমতো পৌঁছায় না, ফলে পাথর জমে যায়। সেক্ষেত্রে ডেন্টিস্টের পরামর্শে শিশুদেরও স্কেলিং করা উচিত।
৫. স্কেলিং করার পর কি সাথে সাথেই খাওয়া-দাওয়া করা যায়?
স্কেলিং করার পর সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা কোনো কিছু না খাওয়াই ভালো। এরপর স্বাভাবিক খাবার খাওয়া যাবে। তবে দাঁতে যেন নতুন করে দাগ না পড়ে, সেজন্য প্রথম ২৪ ঘণ্টা খুব বেশি রঙিন খাবার (চা, কফি, জর্দা) এড়িয়ে চলাই উত্তম।



Call Now
Whatsapp
Address