Tech Dental

Table of Contents

  1. Home
  2. /
  3. Dental Implant
  4. /
  5. ডেন্টাল ইমপ্লান্ট

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট

dental-Implant

Table of Contents

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট হলো টাইটানিয়াম ধাতুর তৈরি কৃত্রিম দাঁতের শেকড়, যা হারানো দাঁতের সবচেয়ে আধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান। এটি পাশের ভালো দাঁত নষ্ট না করে চোয়ালের হাড় রক্ষা করে এবং দেখতে হুবহু আসল দাঁতের মতো। বাংলাদেশে দাঁতের ইমপ্লান্টের খরচ সাধারণত ৪০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস রোগী বা বয়স্করাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই নিরাপদ চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন, যা সঠিক যত্নে সারাজীবন টিকে থাকে।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট কি?

দাঁতের ইমপ্লান্ট বা ডেন্টাল ইমপ্লান্ট (Dental Implant)  হলো একটি কৃত্রিম দাঁতের শেকড়। দাঁত পড়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিই সবচেয়ে স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান। এটি মূলত টাইটানিয়াম ধাতুর তৈরি একটি ছোট স্ক্রু-এর মতো দেখতে হয়।

Dental-Implant
Dental Implants

কেন এটি কৃত্রিম দাঁতের আধুনিক সমাধান?

ডেন্টাল ইমপ্লান্টকে আধুনিক ও সেরা সমাধান বলা হয় প্রধান ৫টি কারণে:

১. হাড় রক্ষা করে: এটিই একমাত্র পদ্ধতি যা দাঁত হারানোর পর চোয়ালের হাড় ক্ষয় (Bone loss) রোধ করে মুখের গঠন ঠিক রাখে।

২. সুস্থ দাঁত অক্ষত রাখে: ডেন্টাল ব্রিজের মতো এটি বসাতে পাশের ভালো দাঁত কেটে ছোট করার প্রয়োজন হয় না।

৩. আসল দাঁতের শক্তি: এটি হাড়ের সাথে জোড়া লাগে বলে আসল দাঁতের মতোই শক্ত হয় এবং যেকোনো খাবার চিবানো যায়।

৪. দীর্ঘস্থায়ী: সাধারণ ডেনচার বা ব্রিজ কয়েক বছর পর বদলাতে হয়, কিন্তু ইমপ্লান্ট সঠিক যতে্ন সারাজীবন টিকে থাকতে পারে।

৫. স্থিরতা: এটি মুখের ভেতর নড়াচড়া করে না বা খুলে আসার ভয় থাকে না, যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট ও ডেন্টাল ব্রিজ: পার্থক্য কী?

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট এবং ডেন্টাল ব্রিজের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো হলো :

 

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট Vs ডেন্টাল ব্রিজ
Dental Implants Vs Dental Bridge
ডেন্টাল ইমপ্লান্ট (Dental Implant)ডেন্টাল ব্রিজ (Dental Bridge)
এটি সরাসরি চোয়ালের হাড়ের ভেতর বসানো হয় এবং কৃত্রিম শেকড় হিসেবে কাজ করে।এটি বসানোর জন্য ফাঁকা জায়গার দুই পাশের ভালো দাঁতের সাপোর্ট বা সাহায্য নেওয়া হয়।
দাঁতের ইমপ্লান্টে পাশের কোনো দাঁত কাটার প্রয়োজন হয় না বা ক্ষতি করে না।ব্রিজ বসাতে হলে পাশের দুটি সুস্থ ও ভালো দাঁতকে কেটে ছোট করতে হয়।
এটি চোয়ালের হাড় ক্ষয় (Bone Loss) রোধ করে এবং মুখের গঠন ঠিক রাখে।এটি হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে পারে না; ব্রিজের নিচের হাড় সময়ের সাথে শুকিয়ে যেতে পারে।
সঠিক যত্ন নিলে সারাজীবন টিকতে পারে।সাধারণত ১০ থেকে ১৫ বছর টেকে, এরপর প্রায়ই বদলানোর প্রয়োজন হয়।
এর প্রাথমিক খরচ তুলনামূলক বেশি।ইমপ্লান্টের তুলনায় এর প্রাথমিক খরচ কিছুটা কম।
সাধারণ দাঁতের মতোই সহজে ব্রাশ ও ফ্লস করা যায়।ব্রিজের নিচ দিয়ে খাবার জমার ঝুঁকি থাকে, তাই পরিষ্কার করতে বিশেষ যত্ন লাগে।

কোনটি আপনার জন্য বেশি উপযোগী?

সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ করতে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন:

  • দাঁতের ইমপ্লান্ট : যদি আপনি পাশের ভালো দাঁত নষ্ট না করে সারাজীবনের জন্য একটি স্থায়ী ও মজবুত সমাধান চান এবং আপনার আর্থিক সমস্যা না থাকে।
  • ডেন্টাল ব্রিজ : যদি আপনি অপারেশন বা সার্জারি এড়াতে চান, খুব কম সময়ে (১-২ সপ্তাহে) দাঁত লাগাতে চান অথবা আপনার আর্থিক সমস্যা থাকে।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট এর খরচ

বাংলাদেশে ডেন্টাল ইমপ্লান্টের খরচ মূলত নির্ভর করে ইমপ্লান্টের ধরন , ক্লিনিকের মান এবং আনুষঙ্গিক চিকিৎসার (যেমন হাড়ের অবস্থা) ওপর।

একটি ডেন্টাল ইমপ্লান্টের (ক্যাপ বা ক্রাউন ছাড়া) খরচ ৪০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। নিচে বিস্তারিত খরচের একটি তালিকা দেওয়া হলো:

ইমপ্লান্টের ধরনআনুমানিক খরচ (প্রতিটি)মন্তব্য
কোরিয়ান (Korean Implant)৳৪০,০০০ – ৳৬০,০০০বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী। (যেমন: Osstem, Dentium)
সুইস/আমেরিকান (Swiss/USA Implant)৳৭০,০০০ – ৳১,২০,০০০+প্রিমিয়াম কোয়ালিটি, হাড়ের সাথে দ্রুত জোড়া লাগে। (যেমন: Straumann, Nobel Biocare)
চাইনিজ/অন্যান্য ( Implant )৳৪০,০০০ – ৳৫০,০০০খরচ কম, তবে স্থায়িত্ব নিয়ে ডেন্টিস্টের সাথে কথা বলা উচিত।

টেক ডেন্টালে ইমপ্লান্ট এর খরচ

টেক ডেন্টালে ডেন্টাল মপ্লান্টের খরচ ( প্রতি দাঁত ) ৬০,০০০ -৮০,০০০ টাকা ।

কারা ডেন্টাল ইমপ্লান্ট করতে পারবেন?

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট একটি ছোট সার্জারি বা অস্ত্রোপচার, তাই এটি করার জন্য রোগীকে শারীরিকভাবে সুস্থ ও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। নিচের যোগ্যতাগুলো থাকলে একজন ব্যক্তি দাঁতের ইমপ্লান্ট করতে পারবেন:

১. পর্যাপ্ত হাড়ের ঘনত্ব (Sufficient Jawbone): এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ইমপ্লান্ট স্ক্রুটি শক্তভাবে ধরে রাখার জন্য চোয়ালে পর্যাপ্ত ও মজবুত হাড় থাকতে হবে। (তবে হাড় কম থাকলে ‘বোন গ্রাফটিং’ এর মাধ্যমে হাড় তৈরি করে নেওয়া যায়)।

২. সুস্থ মাড়ি (Healthy Gums): মাড়িতে কোনো প্রকার গুরুতর সংক্রমণ বা ‘Periodontal Disease‘ থাকা যাবে না। মাড়ি সুস্থ ও শক্ত হতে হবে।

৩. হাড়ের পূর্ণ বৃদ্ধি: সাধারণত ১৮ বছরের নিচে দাঁতের ইমপ্লান্ট করা হয় না। কারণ এই বয়স পর্যন্ত চোয়ালের হাড়ের বৃদ্ধি হতে থাকে। হাড়ের বৃদ্ধি সম্পন্ন হলেই কেবল ইমপ্লান্ট করা উচিত।

৪. রোগ নিয়ন্ত্রণ: যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা ইমপ্লান্ট করতে পারবেন, তবে শর্ত হলো এই রোগগুলো অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে।

কারা ডেন্টাল ইমপ্লান্ট করতে পারবেন না? (ঝুঁকিপূর্ণ রোগী)

যদিও ডেন্টাল ইমপ্লান্ট একটি নিরাপদ প্রক্রিয়া, তবুও কিছু শারীরিক অবস্থা বা অভ্যাসের কারণে নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি করা সম্ভব হয় না বা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ রোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়:

১. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস: রক্তে সুগার বেশি থাকলে ক্ষত শুকাতে দেরি হয় এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।

২. অতিরিক্ত ধূমপায়ী: ধূমপান, হাড় ও দাঁতের ইমপ্লান্টের জোড়া লাগার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে, ফলে তা বিফল হতে পারে।

৩. ১৮ বছরের কম বয়সী: যাদের চোয়ালের হাড়ের বৃদ্ধি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

৪. রেডিওথেরাপি ও হাড়ের ওষুধ: যারা মাথা বা ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপি নিচ্ছেন বা হাড় ক্ষয়ের জন্য ওষুধ (Bisphosphonates) সেবন করছেন।

৫. গর্ভবতী নারী: গর্ভাবস্থায় এক্স-রে ও সার্জারি এড়িয়ে চলাই ভালো।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট কিভাবে করা হয়?

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট বসানোর প্রক্রিয়াটি সাধারণত একদিনে শেষ হয় না। এটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে।

ইমপ্লান্ট বসানোর ধাপসমূহ:

১. রোগ নির্ণয় ও পরিকল্পনা : প্রথমে ডেন্টিস্ট আপনার দাঁতের এক্স-রে (X-ray) বা সিটি স্ক্যান (CBCT) করবেন। এর মাধ্যমে চোয়ালের হাড়ের ঘনত্ব এবং নার্ভের অবস্থান দেখে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।

২. প্রথম সার্জারি – ইমপ্লান্ট স্থাপন : লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে স্থানটি অবশ করে মাড়ি সামান্য কাটা হয়। এরপর বিশেষ ড্রিল ব্যবহার করে হাড়ের ভেতর টাইটানিয়াম স্ক্রু (ইমপ্লান্ট) বসিয়ে দেওয়া হয় এবং মাড়ি সেলাই করে ঢেকে দেওয়া হয়।

৩. হাড় জোড়া লাগা: দাঁতে ইমপ্লান্ট বসানোর পর হাড়ের সাথে সেটি প্রাকৃতিকভাবে জোড়া লাগার জন্য ৩ থেকে ৬ মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই সময় মাড়ির ভেতরে ইমপ্লান্টটি হাড়ের অংশ হয়ে যায়।

৪. অ্যাবাক্টমেন্ট স্থাপন : ইমপ্লান্ট হাড়ের সাথে পুরোপুরি সেট হয়ে গেলে, মাড়ি সামান্য সরিয়ে ইমপ্লান্টের মাথার ওপর একটি ছোট কানেক্টর লাগানো হয়। এটি কৃত্রিম দাঁতকে ধরে রাখে।

৫. ক্রাউন বা দাঁত বসানো : আপনার মাড়ির মাপ নিয়ে একটি কৃত্রিম দাঁত (Crown) তৈরি করা হয়। এটি দেখতে হুবহু আপনার আসল দাঁতের মতো। এই দাঁতটি কানেক্টর এর ওপর স্ক্রু বা এক ধরনের আঠা জাতীয় পদার্থ দিয়ে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেওয়া হয়।

বোন গ্রাফটিং (Bone Grafting) কি এবং কখন প্রয়োজন হয়?

দাঁতে ইমপ্লান্ট বসানোর জন্য যদি কারো চোয়ালের হাড় খুব পাতলা বা দুর্বল হয়, তখন কৃত্রিম হাড় বা শরীরের অন্য অংশের হাড় দিয়ে সেই জায়গাটি ভরাট করে মজবুত করা হয়। একে ‘হাড় প্রতিস্থাপন’ বা বোন গ্রাফটিং (Bone Grafting) বলে। এটি ইমপ্লান্টের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।

দাঁতে ইমপ্লান্ট করার আগে ৩টি প্রধান কারণে বোন গ্রাফটিংয়ের দরকার হতে পারে:

 

১. দীর্ঘদিন দাঁত না থাকলে: দাঁত পড়ার পর লম্বা সময় জায়গাটি খালি থাকলে সেখানকার হাড় শুকিয়ে বা পাতলা হয়ে যায়।

২. হাড়ের ঘনত্ব কম হলে: ইমপ্লান্ট স্ক্রু ধরে রাখার মতো হাড় যদি যথেষ্ট পুরু বা শক্ত না হয়।

৩. মাড়ির রোগ বা আঘাত: কোনো আঘাত বা মাড়ির সংক্রমণের কারণে চোয়ালের হাড় নষ্ট হয়ে গেলে।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট কতদিন স্থায়ী হয়?

ডেন্টাল ইমপ্লান্টকে দন্তচিকিৎসায় একটি স্থায়ী সমাধান (Lifetime Solution) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এর স্থায়িত্ব দুটি ভিন্ন অংশের ওপর নির্ভর করে:

১. ইমপ্লান্ট স্ক্রু (The Implant Screw): চোয়ালের হাড়ের ভেতর বসানো টাইটানিয়ামের অংশটি অত্যন্ত মজবুত। সঠিক যত্ন নিলে এবং মাড়ির হাড় সুস্থ থাকলে এটি সারাজীবন টিকে থাকে।

২. ক্রাউন বা ক্যাপ (The Crown): ইমপ্লান্টের ওপর বসানো কৃত্রিম দাঁতটি (যা দিয়ে আমরা খাবার চিবাই) সাধারণ ব্যবহারের ফলে কিছুটা ক্ষয়ে যেতে পারে। সাধারণত এটি ১০ থেকে ১৫ বছর পর পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট একটি অত্যন্ত নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি এবং এর সফলতার হার প্রায় ৯৫-৯৮%। তবে যেহেতু এটি একটি সার্জারি বা অস্ত্রোপচার, তাই এর কিছু সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।

১. সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যা কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়):

  • ব্যথা ও ফোলা: অপারেশনের পর ২-৩ দিন মাড়ি বা গাল কিছুটা ফুলে যেতে পারে এবং সামান্য ব্যথা হতে পারে। এটি ব্যথানাশক ওষুধে কমে যায়।
  • সামান্য রক্তপাত: সার্জারির পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা থুথুর সাথে সামান্য রক্ত আসতে পারে।
  • নীলচে দাগ (Bruising): ত্বকে বা মাড়িতে হালকা কালচে বা নীলচে দাগ হতে পারে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই মিলিয়ে যায়।

২. জটিলতা বা ঝুঁকি:

  • ইনফেকশন: ইমপ্লান্টের স্থানে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হতে পারে (যাকে Peri-implantitis বলে), সাধারণত ওরাল হাইজিন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে এটি হয়।
  • স্নায়ুর ক্ষতি (Nerve Damage): অভিজ্ঞ ডাক্তার না হলে বা ভুলভাবে দাঁতে ইমপ্লান্ট বসালে নার্ভে আঘাত লাগতে পারে। এর ফলে ঠোঁট, চিবুক বা মাড়িতে দীর্ঘস্থায়ী অবশ ভাব বা ঝিনঝিন অনুভূতি হতে পারে।
  • সাইনাসের সমস্যা: উপরের পাটির দাঁতে ইমপ্লান্ট করার সময় সেটি যদি সাইনাস ক্যাভিটিতে ঢুকে যায়, তবে সাইনাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দ্রষ্টব্য: একজন অভিজ্ঞ ডেন্টিস্ট বা ওরাল সার্জন দিয়ে করালে এবং সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই জটিলতাগুলোর সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট এর সুবিধা ও অসুবিধা

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট বর্তমানে দাঁত প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি হলেও, যেকোনো চিকিৎসার মতো এরও কিছু সুবিধা ও সুবিধা রয়েছে।

ইমপ্লান্ট এর সুবিধা

১. আসল দাঁতের মতো: এটি দেখতে ও কাজে হুবহু আসল দাঁতের মতো। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না যে এটি নকল দাঁত।

২. হাড়ের সুরক্ষা: দাঁত হারানোর পর চোয়ালের হাড় ক্ষয় হতে থাকে। ইমপ্লান্টই একমাত্র পদ্ধতি যা এই হাড় ক্ষয় রোধ করে মুখের স্বাভাবিক গঠন ধরে রাখে।

৩. পাশের দাঁত নিরাপদ: ডেন্টাল ব্রিজের মতো এটি বসাতে পাশের ভালো দাঁত কাটা বা ছোট করার প্রয়োজন হয় না। এটি সহজেই মাড়িতে বসে।

৪. দীর্ঘস্থায়ী সমাধান: ডেনচার কয়েক বছর পর বদলাতে হয়, কিন্তু সঠিক যত্ন নিলে দাঁতের ইমপ্লান্ট সারাজীবন টিকে থাকতে পারে।

৫. খাবার খাওয়ার স্বাধীনতা: এটি হাড়ের সাথে শক্তভাবে জোড়া লাগে, তাই শক্ত ফলমূল বা হাড়ের মতো যেকোনো খাবার অনায়াসে চিবিয়ে খাওয়া যায়।

৬. আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: এটি মুখের ভেতর নড়াচড়া করে না বা খুলে পড়ার ভয় থাকে না, ফলে কথা বলা ও হাসিতে আত্মবিশ্বাস বজায় থাকে।

ইমপ্লান্ট এর অসুবিধা

১. খরচ বেশি: সাধারণ বাধানো দাঁত বা ব্রিজের তুলনায় ইমপ্লান্টের খরচ অনেকটাই বেশি, যা সবার বাজেটের মধ্যে নাও থাকতে পারে।

২. সময়সাপেক্ষ: এই চিকিৎসাটি সম্পন্ন করতে ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে। হাড় জোড়া লাগার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

৩. সার্জারির ঝুঁকি: যেহেতু এটি একটি ছোট অপারেশন, তাই এতে সামান্য রক্তপাত, ব্যথা বা ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে।

৪. হাড়ের ঘনত্ব: ইমপ্লান্ট বসানোর জন্য চোয়ালে পর্যাপ্ত হাড় থাকতে হয়। হাড় কম থাকলে ‘বোন গ্রাফটিং’ করতে হয়, যা খরচ ও সময় আরও বাড়িয়ে দেয়।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট করার পর কী খাবেন আর কী বর্জন করবেন?

ইমপ্লান্ট সার্জারির পর দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য এবং ইমপ্লান্টটি হাড়ের সাথে ঠিকঠাক সেট হওয়ার জন্য খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে প্রথম ৭-১০ দিন নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত:

কী খাবেন:

  • নরম খাবার: এমন খাবার খান যা চিবানোর প্রয়োজন কম। যেমন—সুজি, জাউভাত, পাতলা খিচুড়ি, ওটস, পুডিং, নরম পাউরুটি বা ম্যাশড পটেটো।
  • ঠান্ডা খাবার: সার্জারির প্রথম ২৪ ঘণ্টা আইসক্রিম (বাদাম ছাড়া), দই বা ঠান্ডা খাওয়া ভালো। এটি ফোলা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: নরম মাছ, মুরগির মাংস (চর্বি ছাড়া), ডিম এবং দুধ ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে।
  • ফলমূল: পাকা কলা, পেঁপে বা ফলের রস খেতে পারেন।

কী বর্জন করবেন:

  • খুব গরম খাবার: সার্জারির পর প্রথম ২৪-৪৮ ঘণ্টা খুব গরম খাবার বা পানীয় (চা/কফি) এড়িয়ে চলুন, এতে রক্তপাত হতে পারে।
  • শক্ত ও মচমচে খাবার: টোস্ট বিস্কুট, বাদাম, চিপস, শক্ত পেয়ারা বা হাড় চিবানো এই সময়ে একদম নিষেধ। এতে ইমপ্লান্ট নড়ে যেতে পারে।
  • আঠালো খাবার: চুইংগাম বা আঠালো চকলেট খাওয়া যাবে না।
  • স্ট্র (Straw) ব্যবহার: জুস বা পানি খাওয়ার সময় স্ট্র ব্যবহার করবেন না। স্ট্র দিয়ে চুষে খেলে মুখের ভেতরে চাপ (Suction) সৃষ্টি হয়, যা ক্ষতস্থানের জমাট রক্ত সরিয়ে দিতে পারে এবং শুকাতে দেরি হয়।
  • ধূমপান: ধূমপান হাড় ও ইমপ্লান্টের জোড়া লাগার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে, তাই এটি পুরোপুরি বর্জন করা উচিত।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট বিষয়ে সাধারন প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

 

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট কি ইসলামে জায়েজ?

বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরামের মতে, চিকিৎসার প্রয়োজনে বা হারানো দাঁত প্রতিস্থাপনের জন্য ডেন্টাল ইমপ্লান্ট করা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ জায়েজ (বৈধ)

ডায়াবেটিস রোগীরা কি ডেন্টাল ইমপ্লান্ট করতে পারবেন?

হ্যাঁ, পারবেন। তবে শর্ত হলো ডায়াবেটিস অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। রক্তে সুগারের মাত্রা বা HbA1c লেভেল স্বাভাবিক (সাধারণত ৭%-এর নিচে) থাকলে ইমপ্লান্ট করতে কোনো বাধা নেই। তবে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে ক্ষত শুকাতে দেরি হতে পারে এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে, তাই আগে ডেন্টিস্টের পরামর্শে সুগার নিয়ন্ত্রণে এনে তারপর সার্জারি করা উচিত।

ইমপ্লান্ট কি এমআরআই (MRI) করতে সমস্যা করে?

না, সাধারণত কোনো সমস্যা করে না। কারণ আধুনিক ডেন্টাল ইমপ্লান্টগুলো টাইটানিয়াম (Titanium) বা জিরকোনিয়া দিয়ে তৈরি, যা চুম্বকীয় ধাতু নয় (Non-magnetic)। তাই এমআরআই মেশিনের শক্তিশালী চুম্বকের আকর্ষণে এটি নড়ে যায় না বা গরম হয় না। এটি শরীরের জন্য নিরাপদ।

ইমপ্লান্ট বসাতে কি খুব ব্যথা লাগে?

লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ায় অপারেশনের সময় ব্যথা লাগে না। পরে সামান্য ব্যথা হতে পারে, যা ওষুধে দ্রুত কমে যায়।

ডেন্টাল ইমপ্লান্ট কতদিন স্থায়ী হয়?

সঠিক যত্ন নিলে এটি সারাজীবন টিকে থাকতে পারে।

ইমপ্লান্ট করার কতদিন পর দাঁত লাগানো হয়?

হাড়ের সাথে ইমপ্লান্ট জোড়া লাগার জন্য সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস পর চূড়ান্ত দাঁত (Crown) লাগানো হয়।

 

About the Author

Picture of Sabbir Ahmed
Sabbir Ahmed

Related Articles