দাঁতের ফিলিং বা পুটিং হলো এমন একটি চিকিৎসা যা দাঁতের ক্যাভিটি, ছোট গর্ত, ফাটল বা ক্ষয় ঠিক করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ অপসারণ করে তার পরিবর্তে একটি উপাদান দিয়ে পূরণ করা হয়, যা দাঁতকে আরও ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং এর স্বাভাবিক গঠন পুনরুদ্ধার করে।
দাঁতের ফিলিং (Dental Filling) কী?
দাঁতের কোনো অংশ ক্ষয়ে গেলে বা গর্ত (Cavity) হয়ে গেলে, সেই গর্তটি পরিষ্কার করে বিশেষ এক ধরনের কৃত্রিম উপাদান দিয়ে ভরাট করে দেওয়াকে ‘ফিলিং’ বা আঞ্চলিক ভাষায় ‘পুটিং’ বলা হয়।

কখন দাঁতের ফিলিং করতে হয়?
দাঁতের সমস্যা শুরুতে ধরা পড়লে ফিলিং করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে দেরি না করে ফিলিং করানো উচিত:
১. দাঁতে কালো দাগ বা গর্ত: দাঁতের উপরিভাগে বা পাশে ছোট কালো গর্ত দেখা দিলে।
২. খাবার আটকে থাকা: দুই দাঁতের মাঝখানে বা দাঁতের গর্তে বারবার খাবার আটকে গেলে।
৩. হালকা শিরশির করা: মিষ্টি বা ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেলে যদি সামান্য শিরশির করে (তীব্র ব্যথা নয়)।
৪. দাঁত ভেঙে যাওয়া: কোনো আঘাতে দাঁতের সামান্য অংশ ভেঙে গেলে ফিলিং দিয়ে তা ঠিক করা যায়।
সময়মতো ফিলিং না করলে কী ক্ষতি হতে পারে?
অনেকেই ভাবেন, “সামান্য গর্ত, ব্যথা তো নেই, পরে দেখব।” এই অবহেলাই বড় বিপদ ডেকে আনে। সময়ের সাথে সাথে গর্তটি ডেন্টিন ভেদ করে দাঁতের মজ্জা বা পাল্প (Pulp) পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তখন আর ফিলিং কাজ করে না, ব্যয়বহুল রুট ক্যানেল (RCT) চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সংক্রমণ দাঁতের গোড়ায় ছড়িয়ে তীব্র ব্যথা ও মাড়ি ফোলার সৃষ্টি করে।
দাঁতের ফিলিং কত প্রকার?
আধুনিক ডেন্টিস্ট্রিতে বিভিন্ন উপাদানের ফিলিং ব্যবহার করা হয়।
১. লাইট কিউর বা কম্পোজিট ফিলিং (Light Cure/Composite)
এটি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আধুনিক ফিলিং।
- সুবিধা: এটি দেখতে হুবহু দাঁতের রঙের মতো (Tooth Colored)। শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী।
- কোথায় ব্যবহার হয়: সামনের ও পেছনের সব দাঁতেই ব্যবহার উপযোগী।
২. গ্লাস আয়নোমার ফিলিং (Glass Ionomer – GIC)
এটিও দেখতে সাদা বা দাঁতের রঙের মতো। তবে কম্পোজিটের তুলনায় কিছুটা কম শক্ত।
- সুবিধা: এতে ফ্লোরাইড থাকে যা দাঁতকে পুনরায় ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
- কোথায় ব্যবহার হয়: সাধারণত বাচ্চাদের দাঁতে বা মাড়ির কাছাকাছি ক্ষয়ে যাওয়া অংশে এটি বেশি ব্যবহার হয়।
৩. সিলভার বা অ্যামালগাম ফিলিং (Silver Amalgam)
এটি দস্তা, তামা ও পারদের মিশ্রণে তৈরি কালো বা রুপালি রঙের ফিলিং।
- অসুবিধা: এটি দেখতে কালো হওয়ায় দাঁতের সৌন্দর্য নষ্ট করে। আধুনিক ডেন্টিস্ট্রিতে এবং পরিবেশগত কারণে এর ব্যবহার এখন প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

দাঁতের ফিলিং করার পদ্ধতি
ফিলিং করার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ এবং ব্যথামুক্ত।
১. প্রথমে ডেন্টিস্ট দাঁতের পচা বা নষ্ট অংশটুকু ড্রিল মেশিন দিয়ে পরিষ্কার করেন।
২. গর্তটি শুকিয়ে সেখানে বিশেষ আঠা (Bonding Agent) লাগানো হয়।
৩. এরপর ফিলিং মেটিরিয়াল দিয়ে গর্তটি ভরাট করে দেওয়া হয়।
৪. লাইট কিউর ফিলিং হলে নীল আলো দিয়ে তা শক্ত করা হয়।
৫. সবশেষে পলিশ করে দাঁতটিকে মসৃণ ও স্বাভাবিক আকার দেওয়া হয়।
ফিলিং করার সময় কি ব্যথা লাগে?
না, দাঁতের ফিলিং করার সময় সাধারণত কোনো ব্যথা লাগে না। কারণ এতে দাঁতের নার্ভ বা মজ্জায় হাত দেওয়া হয় না। তবে গর্ত যদি খুব গভীর হয়, সেক্ষেত্রে সামান্য শিরশির করতে পারে, যা সহ্য করার মতো। গভীর গর্তের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ডাক্তার লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে জায়গাটি অবশ করে নেন।
দাঁতের ফিলিং এর খরচ
ফিলিংয়ের খরচ মূলত নির্ভর করে গর্তের আকার এবং কোন ধরনের ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। ফিলিং এর খরচ ৫০০-৪০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
- সিলভার ফিলিং: ৫০০ – ১০০০ টাকা (এখন কম হয়)।
- গ্লাস আয়নোমার (GIC): ৫০০ – ২,০০০ টাকা।
- লাইট কিউর (Composite): ১,০০০ – ৪,০০০ টাকা।
টেক ডেন্টালে ফিলিং চিকিৎসার খরচ ২০২৫
- গ্লাস আয়নোমার (GIC): প্রতি দাঁত ১৫০০ টাকা।
- লাইট কিউর (Composite): প্রতি দাঁত ডিসকাউন্টে ৯৯০ টাকা।
ফিলিং নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: ফিলিং করলে কি আর কোনোদিন ব্যথা হবে না?
উত্তর: সঠিকভাবে ফিলিং করলে এবং নিয়মিত যত্ন নিলে ওই দাঁতে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ফিলিংয়ের নিচে নতুন করে ক্ষয় হলে বা ফিলিং ফেটে গেলে ব্যথা হতে পারে।
প্রশ্ন: ফিলিং কতদিন টেকে?
উত্তর: ভালো মানের লাইট কিউর ফিলিং সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর বা তারও বেশি সময় টিকে থাকে। তবে এটি নির্ভর করে আপনার খাদ্যাভ্যাস ও দাঁতের যত্নের ওপর।
প্রশ্ন: ফিলিং করার পর কি সাথে সাথে খাওয়া যায়?
উত্তর: লাইট কিউর ফিলিং করার সাথে সাথেই সব ধরনের খাবার খাওয়া যায়। তবে সিলভার বা জিআইসি ফিলিংয়ের ক্ষেত্রে ১ ঘণ্টা শক্ত খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।



Call Now
Whatsapp
Address