Tech Dental

Table of Contents

  1. Home
  2. /
  3. Uncategorized
  4. /
  5. দাঁতের ক্যাপ

দাঁতের ক্যাপ

Table of Contents

দাঁতের ক্যাপ বা ডেন্টাল ক্রাউন হলো ক্ষতিগ্রস্ত, দুর্বল বা সৌন্দর্যহীন দাঁতের ওপর বসানো কৃত্রিম আবরণ। যা দাঁতকে সুরক্ষা, শক্তি ও প্রাকৃতিক আকৃতি ফিরিয়ে দেয়। রুট ক্যানেল, ভাঙা-ফাটা দাঁত বা গভীর দাগের ক্ষেত্রে ক্যাপ দাঁতকে ভেঙে যাওয়া থেকে বাঁচায় এবং স্বাভাবিক চিবানো সহজ করে। জিরকোনিয়া, সিরামিক বা মেটাল দিয়ে তৈরি এই ক্যাপ দাঁতকে মজবুত করে এবং সঠিক যত্ন নিলে এটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। এটি দুর্বল দাঁতকে রক্ষা করার একটি কার্যকর সমাধান।

দাঁতের ক্যাপ
দাঁতের ক্যাপ
Dental-Crowns

দাঁতের ক্যাপ কী?

দাঁতের ক্যাপ বা ডেন্টাল ক্রাউন হলো ক্ষতিগ্রস্ত বা দুর্বল দাঁতের আকার, শক্তি এবং সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে ব্যবহৃত কৃত্রিম আবরণ ।

দাঁতের ক্যাপ কেন প্রয়োজন?

ক্ষতিগ্রস্ত বা দুর্বল দাঁতের আকার, আকৃতি, শক্তি ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে দাঁতের ক্যাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের ক্যাপ এর প্রধান প্রয়োজনীয় কারণগুলো আলোচনা করা হলো :

রুট ক্যানেল চিকিৎসার পর দাঁতের ক্যাপ

রুট ক্যানেল চিকিৎসার ফলে দাঁতের নার্ভ অপসারণ হয় এবং দাঁত দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। ক্যাপ দাঁতকে শক্তিশালী করে দীর্ঘদিন সুরক্ষিত রাখে এবং স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়।

ভাঙা ও ফাটল দাঁতে ক্যাপ

ভাঙা বা ফাটলযুক্ত দাঁত চিবানোর চাপ সহ্য করতে পারে না। দাঁতের ক্যাপ ভাঙা অংশ একত্রিত করে মজবুত কভার প্রদান করে। ফলে ভাঙন প্রতিরোধ হয় এবং স্বাভাবিক চিবানোর সক্ষমতা ফিরে আসে।

দাঁতের আকৃতি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ক্যাপ

রঙের স্থায়ী দাগ দূর করা: ব্লিচিংয়ে না যাওয়া গভীর দাগ ঢেকে উজ্জ্বল, দাগমুক্ত হাসি প্রদান করে।

১. দাঁতের রঙের স্থায়ী পরিবর্তন : যেসব দাঁতে গভীর দাগ আছে, যা ব্লিচিং বা অন্য কোনো উপায়ে দূর করা যায় না। দাঁতের ক্যাপ সেগুলিকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয় এবং দাগমুক্ত হাসি প্রদান করে।

২. আকৃতি ও আকারের সামঞ্জস্য: একটি কাস্টমাইজড দাঁতের ক্যাপ ছোট, লম্বা বা অস্বাভাবিক দাঁতকে স্বাভাবিক ও নিখুঁত আকার দেয়।

৩. ফাঁকা দাঁত পূরণ ও বিন্যাস উন্নতকরণ

বিশেষ কিছু দাঁতের ক্যাপ ব্যবহার করে ফাঁকা দাঁতের বিন্যাসগত ত্রুটি সংশোধন করে এবং হাসি আরও সুসংগঠিত দেখায়।

দাঁতের ক্যাপ কত প্রকার?

উপাদান, দাঁতের অবস্থান, সৌন্দর্য এবং শক্তির উপর ভিত্তি করে প্রধানত চার ধরনের দাঁতের ক্যাপ সর্বাধিক প্রচলিত । যেমন :

১. মেটাল ক্রাউন (Metal Crown) : সবচেয়ে মজবুত ও টেকসই , পিছনের দাঁতের জন্য ব্যবহৃত হয়।

২. পোর্সেলিন ফিউজড টু মেটাল (Porcelain Fused to Metal – PFM) : দেখতে প্রাকৃতিক, শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী । সামনে বা পিছনের যেকোনো দাঁতে ব্যবহার করা যায়।

৩. অল-সিরামিক বা পোর্সেলিন ক্রাউন (All-Ceramic/Porcelain Crown) : দেখতে প্রাকৃতিক ও সামনের দাঁতের সৌন্দর্য বর্ধনে বেশি ব্যবহারযোগ্য । অন্যান্য ক্যাপের তুলনায়  কম শক্তিশালী

৪. জিরকোনিয়া ক্রাউন (Zirconia Crown) : দেখতে প্রাকৃতিক ও খুব শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী, সামনে বা পিছনের দাঁতের জন্য উপযোগী ও সবচেয়ে ভালো।

দাঁতের ক্যাপ কত দিন স্থায়ী হয়?

উপাদানের ধরন, মুখের যত্ন, খাদ্যাভ্যাস এবং Dental checkup এর উপর ভিত্তি করে দাঁতের ক্যাপ এর স্থায়ীত্বকাল নির্ভর করে। একটি দাঁতের ক্যাপ ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে সঠিক যত্ন নিলে এটি ২০-৩০ বছর বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আজীবন স্থায়ী হতে পারে।

দাঁতের ক্যাপ এর খরচ কত?

স্থান, ব্যবহৃত উপাদান, এবং ডেন্টিস্টের দক্ষতা উপর নির্ভর করে দাঁতের ক্যাপ এর খরচ ভিন্ন হতে পারে। বর্তমান বাংলাদেশে দাঁতের ক্যাপ খরচের হিসেবে জিরকোনিয়া (Zirconia) ক্যাপ সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। অন্যদিকে মেটাল ক্যাপ (Metal) সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল। নিচে বিস্তারিত খরচের একটি তালিকা দেওয়া হলো: 

ক্যাপের ধরণআনুমানিক খরচ (প্রতি দাঁত)মন্তব্য
১. মেটাল ক্রাউন (Metal Crown) ৩,০০০ টাকা – ৮,০০০ টাকাসস্তা ও কম নান্দনিকতা।
২. পোরসেলিন ফিউজড টু মেটাল (PFM)৪,০০০ টাকা – ১০,০০০ টাকাসবচেয়ে প্রচলিত, কিন্তু মাড়ির কাছে কালচে দাগ দেখা যেতে পারে।
৩. অল-সিরামিক/ই-ম্যাক্স (All-Ceramic/E-Max)৬,০০০ টাকা – ২০,০০০ টাকাসামনের দাঁতের জন্য অত্যন্ত নান্দনিক।
৪. জিরকোনিয়া ক্রাউন (Zirconia Crown)৮,০০০ টাকা – ২০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ নান্দনিকতা ও শক্তি, ধাতুমুক্ত হওয়ায় খরচ বেশি

দাঁতে ক্যাপ (Crown) এর আনুমানিক মূল্য তালিকা ২০২৫

লোকেশন এরিয়া ও ক্লিনিকের মানের উপর ভিত্তি করে দাঁতের ক্যাপ খরচ ভিন্ন হতে পারে। ঢাকার স্বনামধন্য ৫টি ক্লিনিকের প্রতি দাঁতের ক্যাপের আনুমানিক খরচ দেওয়া হলো

ক্লিনিক/হাসপাতালপোরসেলিন/পিএফএম ক্যাপ (৳)জিরকোনিয়া ক্যাপ (৳)
ঢাকা ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল২,০০০ – ৫,০০০
টেক ডেন্টাল৬,০০০ – ১০,০০০১৫,০০০ – ২০,০০০
ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক৮,০০০ – ১২,০০০১৮,০০০ – ২৫,০০০
Praava Health১০,০০০ – ১৫,০০০২০,০০০ – ২৫,০০০
Laser Dental২০,০০০ – ৩০,০০০৩০,০০০ – ৪৫,০০০

জিরকোনিয়া ও মেটাল  ক্যাপের পার্থক্য ?

দাঁতের ক্যাপের দুটি জনপ্রিয় উপকরণ হলো জিরকোনিয়া ক্যাপ (Zirconia Crown) এবং মেটাল-পোরসেলিন ক্যাপ (PFM) তাদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

জিরকোনিয়া ক্যাপ (Zirconia)মেটাল-পোরসেলিন ক্যাপ (PFM)
খুব ভালো নান্দনিকতা: দেখতে আসল দাঁতের মতো প্রাকৃতিক।মাঝারি নান্দনিকতা: মাড়ির কাছে কালচে রেখা দেখা যেতে পারে।
অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভাঙার সম্ভাবনা খুব কম।মজবুত, তবে ওপরের পোরসেলিন স্তর ভেঙে যেতে পারে।
সামনের ও পেছনের দাঁত, উভয়ের জন্যই সেরাসাধারণত পেছনের দাঁতের জন্য উপযুক্ত।
ধাতুমুক্ত হওয়ায় অ্যালার্জি হয় না (অসাধারণ জৈব-সামঞ্জস্য)।ধাতব অ্যালার্জির সামান্য ঝুঁকি থাকে।
তুলনামূলকভাবে বেশি দামিতুলনামূলকভাবে কম দামি

দাঁতের ক্যাপ সুবিধা ও অসুবিধা?

দাঁতের ক্যাপ হলো দাঁতের চিকিত্সায় একটি জনপ্রিয় সমাধান। এটি ক্ষয়প্রাপ্ত বা দুর্বল দাঁতের শক্তি বৃদ্ধি, সৌন্দর্যমূলক সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে প্রাকৃতিক দাঁতের অংশ অপসারণ, অস্বস্তি, উচ্চ খরচ এর মতো এর কিছু অসুবিধা ও ঝুঁকি রয়েছে। যা আমাদের সকলের জানা উচিত। তা হলো:

দাঁতের ক্যাপ এর সুবিধা (Advantages)

  • ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতকে মজবুত করা: ভেঙে যাওয়া, ফাটল ধরা বা রুট ক্যানেল করা দুর্বল দাঁতের শক্তি ফিরিয়ে আনে।
  • ভাঙন থেকে সুরক্ষা: ক্ষতিগ্রস্থ দাঁতের ভাঙন থেকে রক্ষা করে।
  • সৌন্দর্য বৃদ্ধি: দাঁতের আসল আকৃতি, আকার ও রঙ ফিরিয়ে এনে হাসির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
  • দাঁতের শক্তি বৃদ্ধি: দাঁতটিকে স্বাভাবিকভাবে চিবানো বা কামড়ানোর শক্তি ফিরিয়ে আনে।
  • দীর্ঘস্থায়িত্ব: সঠিক যত্ন নিলে ক্যাপ ১৫ থেকে ২৫ বছর বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।
  • দাঁতের স্থায়ী সুরক্ষা: দাঁত না তুলেই তা রক্ষা করা সম্ভব হয়।

দাঁতের ক্যাপ ব্যবহারের অসুবিধা ও ঝুঁকি (Disadvantages & Risks)

  • প্রাকৃতিক দাঁতের অংশ অপসারণ: ক্যাপ লাগানোর জন্য দাঁতের কিছু অংশ স্থায়ীভাবে কাটতে হয়।
  • সংবেদনশীলতা: প্রথম দিকে দাঁতটি ঠান্ডা বা গরমের প্রতি কিছুটা সংবেদনশীল হতে পারে।
  • আলগা হওয়া/খসে পড়া: সময়মতো যত্ন না নিলে ক্যাপ আলগা হয়ে যেতে বা খসে পড়তে পারে।
  • ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি: PFM বা সিরামিক ক্যাপের বাইরের স্তরটি কখনও কখনও অতিরিক্ত চাপে ভেঙে যেতে পারে।
  • ক্যাপের নিচে ক্ষয়: ঠিকমতো পরিচর্যা না করলে ক্যাপের নিচে দাঁতের গোড়ায় ক্ষয় হতে পারে।
  • ভবিষ্যতে প্রতিস্থাপন: পরবর্তীতে পরিবর্তন বা মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে।

দাঁতের ক্যাপ কিভাবে করা হয়? (প্রসিডিউর)

Dental Crown Treatment procedure
Dental Crown Treatment procedure

দাঁতের ক্যাপ একটি সাধারণ Dental Treatment । যা সাধারনত কয়েকটি ভিজিটে সম্পন্ন হয়। যা ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতকে রক্ষা করতে এবং তার কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনে। প্রক্রিয়াটি Dental Clinic এবং ল্যাবে তৈরি করা হয়। নিচে ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:

১. প্রাথমিক পরামর্শ এবং পরীক্ষা

প্রথমে Dentist দাঁতের অবস্থা পরীক্ষা করেন ,যেমন X-ray নেয়া হয়। এখানে ক্যাপের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয় এবং চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।

২. দাঁত প্রস্তুতি 

  • দাঁতকে অসাড় (অবস) করা হয় যাতে ব্যথা না হয়।
  • ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ অপসারণ করা হয় এবং দাঁতকে ক্যাপের জন্য আকৃতি দেওয়া হয় । এটি দাঁতের উপরের অংশ কমিয়ে দেয় যাতে ক্যাপ ভালোভাবে বসে।

৩. সাইজ ও ইম্প্রেশন নেওয়া 

প্রস্তুত দাঁতের Size & Impression নিয়ে ল্যাবে পাঠানো হয়। এটি ক্যাপ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। কখনো Digital scaner ব্যবহার করা হয়।

৪. অস্থায়ী ক্যাপ লাগানো

প্রথম ভিজিটে অস্থায়ী ক্যাপ লাগানো হয় যাতে দাঁত রক্ষিত থাকে এবং আপনি স্বাভাবিকভাবে খেতে পারেন। এটি ১-২ সপ্তাহের জন্য থাকে।

৫. ক্যাপ তৈরি

ল্যাবে Size & Impression ভিত্তিতে স্থায়ী ক্যাপ তৈরি করা হয়। উপাদান যেমন জিরকোনিয়া, পোর্সেলিন বা মেটাল ব্যবহার করা হয়। এটি ১-২ সপ্তাহ লাগতে পারে, কিন্তু কিছু ক্লিনিকে একদিনেই (CAD/CAM প্রযুক্তি) সম্ভব।

৬. স্থায়ী ক্যাপ লাগানো

দ্বিতীয় ভিজিটে অস্থায়ী ক্যাপ অপসারণ করে, স্থায়ী ক্যাপ বসানো হয় ।

৭. ফলো-আপ

কিছু দিন পর check up করা হয় যাতে কোনো সমস্যা না থাকে।

দাঁতের ক্যাপের যত্ন

সঠিক যত্নের মাধ্যমে দাঁতের ক্যাপটি অনেক বছর ভালো রাখা সম্ভব। ক্যাপের প্রধান শত্রু হল ক্যাপের কিনারা বরাবর জমে থাকা Plaque। যা মাড়ির রোগ এবং দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে।  নিচে দাঁতের ক্যাপ এর যত্ন নেওয়ার উপায় দেওয়া হলো,

ব্রাশিং ও ফ্লসিং: দিনে দু’বার নরম ব্রাশে ব্রাশ করুন এবং প্রতিদিন ফ্লস ও মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।

শক্ত খাবার বর্জন: বরফ, শক্ত ক্যান্ডি বা বাদাম চিবানো এড়িয়ে চলুন।

সাবধানতা: দাঁতকে বোতল খোলা বা প্যাকেট ছেঁড়ার কাজে ব্যবহার করবেন না।

নাইট গার্ড: দাঁত পিষার অভ্যাস থাকলে রাতে অবশ্যই নাইট গার্ড পরুন।

নিয়মিত ভিজিট: প্রতি ৬ মাস অন্তর ডেন্টিস্টের কাছে চেক-আপ করান।

জরুরী যোগাযোগ: ক্যাপ ঢিলা বা ব্যথা হলে দ্রুত ডাক্তারকে জানান।

দাঁতের ক্যাপ খুলে গেলে করণীয়

দাঁতের ক্যাপ বা Dental Crown খুলে গেলে আতঙ্কিত হবেন না। দাঁতের ক্যাপ খুলে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু দ্রুত ব্যবস্থা নিলে দাঁতের ক্ষতি রোধ করা যায়। দাঁতের ক্যাপ খুলে গেলে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় কি নিচে আলোচনা করা হলো:

  • ক্যাপ এবং দাঁত সুরক্ষিত রাখুন : ক্যাপটি আলতো করে গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন, এক্ষেত্রে সাবান বা টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন না। দাঁতের অংশটাও আলতো করে ব্রাশ/পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।
  • ক্যাপ এবং দাঁত পরীক্ষা করুন : ক্যাপটির ভিতরের অংশে কোনো ভাঙা বা ফাটল আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। এবং দাঁতে কোনো ক্ষয় বা ব্যথা আছে কিনা চেক করুন। যদি দাঁতে অতিরিক্ত ব্যথা করে তাহলে অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • ক্যাপ না থাকলে দাঁতের যত্ন নিন : ক্যাপটি পুনরায় বসানো পর্যন্ত উন্মুক্ত দাঁতে গরম/ঠান্ডা/মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন। গরম, ঠান্ডা বা মিষ্টি খাবার দাঁতে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
  • ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন :দাঁতের ক্যাপ খুলে গেলে দেরি না করে নিকটস্থ একজন দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যদি ক্যাপটি অক্ষত থাকে তবে ডাক্তার ক্যাপটি পরিষ্কার করে স্থায়ীভাবে পুনরায় সিমেন্ট দিয়ে বসিয়ে দেবেন। যদি ক্যাপটি ভেঙে যায় তাহলে একটি নতুন ক্যাপ তৈরি করার প্রয়োজন হতে পারে। 

গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ:

দাঁতের ক্যাপ খুলে গেলে কখনোই সুপার গ্লু বা অন্য কোনো গৃহস্থালী আঠালো পদার্থ ব্যবহার করে এটি লাগানোর চেষ্টা করবেন না। কারণ এটি দাঁতের এবং ক্যাপের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।

দাঁতের ক্যাপ ভেঙ্গে গেলে কি করণীয়?

শক্ত খাবার, চিবানো বা দুর্বল সিমেন্টের কারণে দাঁতের ক্যাপ ভেঙ্গে যাওয়া যা বা ফাটে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। দাঁতের ক্যাপ ভেঙে বা ফেটে গেলে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় পদক্ষেপগুলো হলো :

শান্ত থাকুন ও অংশটি সংরক্ষণ করুন:

  • ভাঙা বা ফেটে যাওয়া ক্যাপের অংশটি সাবধানে তুলে নিয়ে পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করুন। এটি ডেন্টিস্টকে ক্ষতির ধরন বুঝতে সাহায্য করবে।

ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ:

  • ভাঙা কিনারা মুখ বা মাড়িকে আঘাত করতে পারে এবং দাঁতে ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে। তাই দেরি না করে দ্রুত একজন দন্ত চিকিৎসকের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।

ভাঙা দাঁতের যত্ন নিন:

  • চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ভাঙা দাঁত দিয়ে খাবার চিবানো এড়িয়ে চলুন

ডাক্তারের চিকিৎসা ব্যবস্থা:

  • আংশিক মেরামত : যদি সামান্য অংশ ভাঙে, তবে ডেন্টিস্ট তা মেরামত করে দিতে পারেন।
  • সম্পূর্ণ পুনঃস্থাপন (Replacement): যদি বড় অংশ ভেঙে যায়, ক্যাপের কার্যকারিতা নষ্ট হয়, অথবা দাঁতের কাঠামো উন্মুক্ত হয়ে যায়, তবে ডাক্তার সম্পূর্ণ ক্যাপটি পরিবর্তন করে নতুন একটি বসানোর পরামর্শ দিতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ: ভাঙা ক্যাপ বা দাঁত নিয়ে দীর্ঘ সময় থাকবেন না। কারণ এর ফলে দাঁতের গোড়ায় সংক্রমণ বা মাড়ির সমস্যা তৈরি হতে পারে।

দাঁতের ক্যাপ ঢিলা হয়ে গেলে কি করণীয়?

দাঁতের ক্যাপ (ডেন্টাল ক্রাউন) ঢিলা হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। যা ক্ষয়, শক্ত খাবার চিবানো বা সিমেন্টের দুর্বলতার কারণে হতে পারে। চিকিৎসা ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যম দাঁতের আরও ক্ষতি রোধ করা যায়। দাঁতের ক্যাপ ঢিলা হয়ে গেলে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেয়া জরুরি নয়, কিন্তু ব্যথা বা ফোলা থাকলে অবিলম্বে ডেন্টিস্ট দেখান। নিচে ধাপে ধাপে করণীয় দেওয়া হলো:

১. ক্যাপটি স্পর্শ বা নাড়ানো : ঢিলা ক্যাপটি অতিরিক্ত স্পর্শ বা নাড়াচাড়া করবেন না, এতে দাঁতের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

২. ক্যাপটি পরিষ্কার রাখুন : দাঁতের চারপাশে আলতো করে ব্রাশ করুন এবং গরম লবণ-জল দিয়ে কুলকুচি করে ক্যাপটি পরিষ্কার রাখুন

৩. সেই দাঁত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন : ঢিলা ক্যাপযুক্ত দাঁতটি দিয়ে খাবার চিবানো বা কামড়ানো সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলুন। নরম খাবার খান।

৪. ডেন্টিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন : অবিলম্বে নিকটস্থ একজন দন্ত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

যদি দাঁতের নিচে ক্ষয় হয় বা ক্যাপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে নতুন ক্যাপ বা অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

যদি ক্যাপটি অক্ষত থাকে, ডাক্তার পুরনো সিমেন্ট পরিষ্কার করে এটি স্থায়ীভাবে পুনরায় বসিয়ে দেবেন।

গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ: ঢিলা ক্যাপকে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের কাছে যান, যাতে নিচে থাকা দাঁতটিকে সুরক্ষিত রাখা যায়।

দাঁতের ক্যাপ বিষয়ে সাধারন প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

সবচেয়ে ভালো দাঁতের ক্যাপ কোনটি?

নান্দনিকতা ও শক্তির বিবেচনায় সবচেয়ে ভালো দাঁতের ক্যাপ হল: জিরকোনিয়া ক্যাপ (Zirconia Cap) ও পোর্সেলিন ফিউজড টু মেটাল (PFM) ক্যাপ।

ফাঁকা দাঁতের চিকিতসায় ক্যাপ লাগানো কি ভালো?

ফাঁকা দাঁতের (Diastema) চিকিৎসায় ক্যাপ লাগানো তুলনামূলোক ভাবে ভালো নয়। কারণ সুস্থ দাঁতকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি ছেঁটে ফেলতে হয়। তবে সৌন্দর্য রক্ষায় ফাঁকা দাঁতের চিকিৎসায় বিকল্প হিসেবে ভেনিয়ার চিকিৎসা ভাল সমাধান হতে পারে।

দাঁতের ক্যাপের নিচে ব্যথা হলে করনীয় কি?

দাঁতের ক্যাপের নিচে ব্যথা হলে হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচি করুন । খুব বেশি ঠান্ডা বা গরম খাবার/পানীয় এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে নিকটস্থ চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

ক্যাপ বদলাতে কতদিন সময় লাগে?

দাঁতের ক্যাপ বদলাতে সাধারণত ১ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে, যা দুটি ভিজিট সম্পন্ন করতে প্রয়োজন। প্রথম ভিজিটে পুরোনো ক্যাপ অপসারণ, দাঁত প্রস্তুতকরণ (প্রয়োজনে), নতুন ইমপ্রেশন বা ছাপ নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ভিজিটে ল্যাব থেকে নতুন স্থায়ী ক্যাপটি আসার পর তা বসানো, ফিটিং পরীক্ষা এবং স্থায়ীভাবে সিমেন্টিং করা হয়।

ক্যাপ খুলে ব্যাবহার করা যায়?

না। দাঁতের ক্যাপ একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া । যা খুলে ব্যাবহার করার মত ব্যবস্থা নেই।

বাচ্চাদের দাঁতে ক্যাপ লাগানো যায়?

হ্যাঁ, বাচ্চাদের দাঁতেও ক্যাপ লাগানো যায়। যদি বাচ্চাদের দুধ দাঁতে ব্যাপক ক্ষয় বা গহ্বর হয় ,যা শুধু ফিলিং দিয়ে মেরামত করা যায় না, দাঁতটি রুট ক্যানেল (বা পালপেক্টমি) করার পরে এটিকে মজবুত করার জন্য বাচ্চাদের দাঁতে ক্যাপ লাগানো হয়।

 

About the Author

Picture of Dr. Afsana Haque Joty
Dr. Afsana Haque Joty
টেক ডেন্টাল মিরপুর শাখার সিনিয়র ডেন্টাল সার্জন হিসেবে দায়িত্বরত ডা. আফসানা হক জ্যোতি দীর্ঘ পাঁচ বছরের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন দন্ত চিকিৎসক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কৃতি শিক্ষার্থী ঢাকা ডেন্টাল কলেজ থেকে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি এবং পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং (PGT) সম্পন্ন করেছেন। বিএমডিসি নিবন্ধিত (নং ১১০৭১) এই চিকিৎসক এস্থেটিক ডেন্টিস্ট্রিতেও বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তিনি অত্যন্ত যত্ন ও দক্ষতার সাথে শিশু ও বড়দের সব ধরনের দাঁতের সমস্যার আধুনিক সমাধান নিশ্চিত করছেন।

Related Articles